জেলা প্রতিনিধি
০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। এটি কেবল বদলিজনিত ক্ষোভ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
এরই মধ্যে নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ঘাতক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান ও শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস।
শিক্ষক হত্যার এই ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। মিছিলটি প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা দ্রুত হত্যাকারীর ফাঁসি ও নেপথ্য কারণ বের করার দাবি জানান।
এর আগে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে মানববন্ধনও করা হয়। আন্দোলনকারীরা ৯ দফা দাবি পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে—হত্যাকারীর দ্রুত ফাঁসি নিশ্চিত করা, নেপথ্যের ব্যক্তিদের বিচার, ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা ও স্মার্ট আইডি কার্ড নিশ্চিত করা, কর্মচারীদের জন্য আলাদা পোশাক ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন প্রদান এবং বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, আসমা সাদিয়া রুনা অত্যন্ত সৎ ছিলেন এবং বিভাগের প্রধান হওয়ার পর অনেক অবৈধ আয় ও অনিয়ম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই কারণে একটি পক্ষ তাকে অপছন্দ করত এবং তারাই ফজলুর রহমানকে উস্কে দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও প্রকাশ্য বিচার দাবি করেছেন।
ময়নাতদন্তে নিহতের শরীরে নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আসমা সাদিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২০টিরও বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গলার নিচে সজোরে আঘাতের ফলে সৃষ্ট গভীর ক্ষতকেই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। ধস্তাধস্তির সময় বাঁচার চেষ্টায় তার হাতেও আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকদের মতে, আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে এটি চরম ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে শিক্ষককে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ঘাতক ফজলুর রহমান বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফজলুর এখন ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন এবং লিখে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে তার কাছ থেকে দুই পাতার একটি লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করেছে।
অন্যদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পৌর গোরস্থানে আসমা সাদিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী এই শিক্ষকের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রতিনিধি/একেবি