বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় দুই পরীক্ষার্থীকে উত্তর বলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ওহিদুর রহমান। তিনি কুমিল্লা লাঙ্গলকোর্ট হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ২০৯ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়৷ পরীক্ষা চলাকালীন বিশেষ দুই পরীক্ষার্থীকে একাধিকবার প্রশ্নোত্তর বলে দিচ্ছিলেন ওয়াহিদুর রহমান। এ সময় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী প্রশ্ন না বলে দেওয়ার অনুরোধ জানালে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাকে নিকাব খুলে মুখ দেখাতে বলেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার ৫০ মিনিট পর ওই শিক্ষক (ওহিদুর) আমার বাম পাশে থাকা দুই শিক্ষার্থীকে প্রশ্নোত্তর বলে দিচ্ছিলেন। বিনয়ের সঙ্গে কারণ জানতে চাইলে তিনি আমার মুখ দেখাতে বলে যা আমার জন্য বিব্রতকর ছিল। এ বিষয়ে কথা বললে আমার সমস্যা হবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
অভিযুক্তকারী ওই শিক্ষক অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন তিনি কারও সঙ্গে কথা বলেননি। শুধু পরীক্ষার সময় বলে দিয়েছেন।
এদিকে একই কক্ষে থাকা আরেক পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমি ওই শিক্ষককে (ওহিদুর রহমান) পরীক্ষার ৫০ মিনিট পর দুই মিনিটের মতো দুজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে দেখেছি।’
কি কথা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি সামনে ছিলাম তাদের মধ্যে কি কথা হয়েছে সেটা বলতে পারছি না।
কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২০৬, ২০৭, ২০৮ ও ২০৯ কক্ষের সমন্বয়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. কৃষ্ণ কুমার সাহা বলেন, ২০৯ নং কক্ষের পরীক্ষার্থী যে অভিযোগটি করেছেন, সে ধরনের কোনো লক্ষণ বা বিষয় আমি ওই কক্ষে বা ফ্লোরে অবস্থানকালীন সময়ে লক্ষ্য করিনি বা আমার কাছে কোনো মৌখিক অভিযোগও করেনি।
অতএব, আপনাকে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, আমার উপস্থিতে পরীক্ষার্থী ফারহানা জান্নাতের অভিযোগের বিষয়বস্তু আমার সামনে আসেনি।
এ বিষয়ে ওই পরীক্ষার্থী কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে অভিযোগ পত্র দেন।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আমরা একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। ইউনিট প্রধানকে অভিযোগটি মার্ক করে পাঠিয়েছে। পরবর্তী প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাস বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি বসে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
প্রতিনিধি/এসএস