Dhaka Mail Logo

অটোমোবাইল

পেট্রোল ও অকটেন আসল কি না যেভাবে পরীক্ষা করবেন

অটোমোবাইল ডেস্ক

২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

জ্বালানির চড়া দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মনেও দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইকে পেট্রোল কিংবা অকটেন নেওয়ার সময় অনেকেরই মনে এই সংশয় জাগে যে, পাম্প থেকে যে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে তা আদৌ খাঁটি তো? কারণ, ভেজাল জ্বালানি কেবল গাড়ির মাইলেজ বা কার্যক্ষমতা কমিয়েই দেয় না, বরং দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে। তাই জ্বালানির সঠিক গুণমান সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

অনেকেই হয়তো জানেন না, পাম্পে গিয়ে পেট্রোল বা অকটেনের বিশুদ্ধতা যাচাই করার পূর্ণ আইনি অধিকার প্রতিটি গ্রাহকেরই রয়েছে। দেশীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলোর মার্কেটিং ডিসিপ্লিন গাইডলাইন (এমডিজি) অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি অনুমোদিত পেট্রোল পাম্পে ‘ফিল্টার পেপার টেস্ট’ বা বিশেষ ফিল্টার কাগজের মাধ্যমে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো গ্রাহক যদি পাম্পে সন্দেহ প্রকাশ করে এই পরীক্ষা করতে চান, তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করতে বাধ্য।

যেভাবে ফিল্টার পেপার টেস্ট করবেন

এই সহজ পরীক্ষাটি করার জন্য সবার প্রথমে পেট্রোল পাম্পের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাছ থেকে একটি ফিল্টার পেপার বা বিশেষ কাগজ চাইতে হবে। এরপর সেই কাগজের ওপর কয়েক ফোঁটা পেট্রোল বা অকটেন ফেলে দুই থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, যাতে তরল জ্বালানি পুরোপুরি বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে যায়। এই অত্যন্ত সহজ ও প্রাথমিক পরীক্ষার মাধ্যমেই জ্বালানির মান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

আসল ও ভেজাল জ্বালানি চেনার উপায়

জ্বালানি পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার পর যদি ফিল্টার পেপারে কোনো ধরনের দাগ, তেলচিটে ভাব বা অন্য কোনো অবশিষ্টাংশ বা মার্জিন না থাকে, তবে সাধারণভাবে সেটিকে বিশুদ্ধ পেট্রোল বা অকটেন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু শুকিয়ে যাওয়ার পর যদি কাগজে তেলতেলে বা পিচ্ছিল দাগ, কোনো ধরনের রঙের ছাপ কিংবা অন্য কোনো উপাদানের অবশিষ্টাংশ স্পষ্ট দেখা যায়, তবে সেই জ্বালানিতে ভেজাল থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট্রোল বা অকটেনের সঙ্গে কেরোসিন কিংবা অন্য কোনো নিম্নমানের রাসায়নিক পদার্থ মেশানো থাকলেই সাধারণত এমন অবশিষ্টাংশ বা দাগ রয়ে যায়।

অবশ্য একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, এই ফিল্টার পেপার পরীক্ষা হলো প্রাথমিক যাচাইয়ের একটি উপায় মাত্র। এটি সব ধরনের রাসায়নিক ভেজাল শতভাগ নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে না পারলেও বড় ধরনের জালিয়াতি ধরে দিতে বেশ কার্যকর। জ্বালানির মান নিয়ে যদি আপনার মনে গভীর ও গুরুতর সন্দেহ থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানির নির্ধারিত পরীক্ষাগারের পরীক্ষাই চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হয়।

সন্দেহ হলে কোথায় অভিযোগ জানাবেন?

যদি পাম্পে করা এই প্রাথমিক পরীক্ষায় জ্বালানিতে ভেজালের প্রমাণ পান বা সন্দেহ তৈরি হয়, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে সংশ্লিষ্ট তেল বিপণন সংস্থার কাস্টমার কেয়ার বা হেল্পলাইনে অভিযোগ জানানো উচিত। দেশের প্রতিটি অনুমোদিত পেট্রোল পাম্পের দৃশ্যমান স্থানে অভিযোগ জানানোর হেল্পলাইন নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত থাকে। একজন সচেতন গ্রাহকের সময়োপযুক্ত সতর্কতা ও সঠিক পদক্ষেপই ভেজাল জ্বালানি কারবারিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

এজেড