বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আদালতকে ব্যবহার করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিত করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জকসুর সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থী সংসদটি।
জকসুর পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন গণতন্ত্রের স্পন্দন ও প্রাণ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে ক্যাম্পাসে জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের সুস্পষ্ট ইন্ধনে আদালতের মাধ্যমে এ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মতামত ও ভোটাধিকারকে অগ্রাহ্য করার শামিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও ন্যায্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন পূর্বঘোষিত তারিখে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু সেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করতে একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতকে ব্যবহার করেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ ব্যবস্থাকে কার্যত অকার্যকর করে রাখার একটি ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
জকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা ছিল শিক্ষার্থীদের। ইতোমধ্যে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েও শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। শাকসুর ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীরা কোনো পেশিশক্তি, রাজনৈতিক চাপ কিংবা দলীয় স্বার্থের কাছে নিজেদের ভোটাধিকার বন্ধক দেবে না।
বিবৃতিতে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষের দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, ছাত্রসংসদ নির্বাচন কোনো লেজুড়বৃত্তিক প্রক্রিয়া নয়; এটি শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য শাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় গতকাল সোমবার প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন কয়েকটি প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে তারা মুক্ত হন।