নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর তিন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি), দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা সাইন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। এতে আশেপাশের এলাকায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সরকার সাত কলেজের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না জানানোয় বৃহস্পতিবার রাজধানীর তিনটি পয়েন্টে ব্লকেড কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২০–২১ সেশনের শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদার জানান, রাজধানীর সাইন্সল্যাব, তাঁতিবাজার ও টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘পতিত সরকার সাত কলেজকে অধিভুক্ত করে। এটা ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করছে।’
শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে জানুয়ারির প্রথম দিকেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে অবরোধ কর্মসূচিতে নেমেছেন। তবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি গ্রহণ এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সাত কলেজেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। সরকারি দফতরে ধরনা দিয়েছি। সবাই আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এখনো অধ্যাদেশ জারি হয়নি।
তারা আরও জানান, আমরা দুর্ভোগ চাই না। সরকার দ্রুত অধ্যাদেশ দিয়ে দিক। কিন্তু না দেওয়ায় আমরা আন্দোলন করছি।
এসএইচ/এফএ