images

শিক্ষা

সাত কলেজ ইস্যুতে ২ দাবিতে ঢাকা কলেজ শিক্ষকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৮ পিএম

উচ্চশিক্ষার বানিজ্যিকরণ রোধে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির খসরা অধ্যাদেশের স্কুলিং মডেল ও হাইব্রিড সিস্টেম বাতিল করে ঐতিহ্যবাহী ঢাকার সাত কলেজের স্বাতন্ত্র কাঠামো বহাল রেখে অধিভুক্তির মাধ্যমে কলেজগুলোর বিদ্যমান কাঠামোতে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক (সম্মান) ও মাস্টার্স শ্রেণির শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রতিটি টায়ারে যোগ্য সকল কর্মকর্তার পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন এসোসিয়েশন ঢাকা কলেজ ইউনিট।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় ঢাকা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় শিক্ষকরা বলেন, আমরা সারা দেশের সকল সরকারি কলেজ ও দফতর নিরুপায় হয়ে এখানে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করছি। আমরা ঢাকা মহানগরীর ঐহিত্যবাহী সাত কলেজের অস্থিত্বের কথা বলতে এসেছি। প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে যে খসড়া অধ্যাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে ধরনের প্রক্রিয়া এবং বিস্তর ও গভীর গবেষণা করা প্রয়োজন সেই ধরনের প্রক্রিয়া এবং গবেষণা কোনোটিই গ্রহণ করা হয়নি।

তাঁরা বলেন, রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে নারী উচ্চশিক্ষা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকরণ ত্বরান্বিত হবে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় যে রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে সেই রূপরেখা এবং পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সমাজের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

তারা আরো বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির আগে, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক বিন্যাস ব্যতীত কীভাবে প্রস্তাবিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় নামে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয় সেটা বোধগম্য নয়। শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং অপেশাদারিত্ব লক্ষণ করা যাচ্ছে। সেই সাথে সুস্পষ্টতই রাজধানীর সাতটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজের স্টেক হোল্ডার, সব স্তরের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অংশীজনের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। আর এর ফলে ঢাকা মহানগরীর সাতটি ঐতিহ্যবাহী কলেজের শিক্ষা পরিবেশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষা পরিবেশ অনুকূল রাখার প্রয়াসে আমাদের এই কর্মসূচি।

শিক্ষকরা বলেন, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অথবা তার সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধীনে সরকারি সাত কলেজে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করার দাবিটি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং শিক্ষার্থীসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন শিক্ষকবৃন্দ। সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি দিনও নষ্ট হোক সেটা আমরা কোনভাবেই চাই না। শিক্ষার্থীরা রাজপথ থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসুক-এটি যেমন অভিভাবকদের প্রত্যাশা, তেমনি এটি শিক্ষক সমাজের কামনা।

তারা বলেন, শিক্ষকরা ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ও অপেক্ষমাণ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া অধ্যাদেশে শিক্ষকদের ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে ক্লাস, পরীক্ষাসহ কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি অর্থাৎ প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া অধ্যাদেশে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শ্রেণিকার্যক্রমসহ কোন কার্যক্রমেই অংশগ্রহণ করার এখতিয়ার দেয়নি; কারণ খসড়া অনুযায়ী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হলেও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সাত কলেজসহ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন। চূড়ান্ত অধ্যাদেশ, সিলেবাস ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারিত না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বর্তমানে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। তাই প্রস্তাবিত কাঠামোয় বিসিএস সাধারন শিক্ষা ক্যাডারের অবস্থান কি হবে তার স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত জরুরি।

এসএইচ/এআর