নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে গেলে শিক্ষকদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সিআর আবরার। শিক্ষকদের এমন সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারী বিধি লঙ্ঘনের শামিল বলেও মন্তব্য তার।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্তের (পরীক্ষা বন্ধ রাখা) কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আন্দোলনের নামে যেভাবে পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ অনেক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও অনেক স্থানে তা বন্ধ রয়েছে- এ অবস্থাকে তিনি ‘একেবারেই অনভিপ্রেত’ বলে উল্লেখ করেন।
সিআর আবরার বলেন, ‘নবম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার দাবি অন্যায় ও অযৌক্তিক। চাকরিতে যোগদানের সময় শিক্ষকরা জানতেন তারা দশম গ্রেডে থাকবেন। সেই চাকরির শর্তের বাইরে এসে এখন নবম গ্রেড দাবি করা মূলত অসঙ্গত। কারণ এই গ্রেডে বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তা আসেন। ফলে এটি কোনো একক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নয়, বরং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের বিষয়। যে কেউ হঠাৎ করে এই গ্রেডে যেতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘দাবি উত্থাপনের সময়টিও অনুচিত। কারণ পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে।’ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করাকে তিনি শিক্ষকতার নৈতিকতার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা জানান, সরকার শিক্ষকদের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে এবং নির্দেশ দিচ্ছে আগামীকাল থেকেই পরীক্ষা নিতে। অন্যথায় সরকারি কর্মচারী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় কোনোভাবে আপস করা হবে না। কারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে জানা গেছে, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা পরীক্ষায় আগ্রহী, শুধু একটি অংশের শিক্ষকই পরীক্ষা নিচ্ছেন না। তারা আগামীকাল পরীক্ষা নেবেন, অন্যথায় শাস্তির মুখোমুখি হবেন।’
এম/এএইচ