নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
তিন দফা দাবিতে দেশজুড়ে তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তাদের সংগঠন ‘ঐক্য পরিষদ’ ঘোষিত এই কর্মসূচির কারণে সারাদেশে বন্ধ রয়েছে পাঠদান।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি চলবে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পর্যন্ত। পূর্বঘোষিত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না পাওয়ায় এই কর্মসূচি দেন শিক্ষকরা।
সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেরা বেগম সোমবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, সহকারী শিক্ষক পদকে অ্যান্ট্রি পদ ধরে ১১তম গ্রেড প্রদান, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি এবং ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন— এই তিন দফা দাবিতে আমরা অনেকদিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। কিন্তু আশ্বাসের বাইরে কোনো অগ্রগতি নেই। তাই বাধ্য হয়েই পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যেতে হয়েছে।
তিনি জানান, টানা তিন দিন এই কর্মসূচি চলবে। দাবির অগ্রগতি না হলে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনসহ আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওই রাতেই প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শাহীনূর আকতার বলেন, সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও দেখা যায়নি কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ। তাই কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এখন কর্মসূচি কঠোর করা ছাড়া উপায় নেই। দাবি আদায় না হলে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচি হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০তম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার পদক্ষেপ নেয়। তবে এতে সহকারী শিক্ষকরা অসন্তুষ্ট।
তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, নার্স, কৃষি কর্মকর্তা, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি নিয়েই দশম গ্রেড পাচ্ছেন। অথচ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি সিএনএড, বিপিএড বা বিটিপিটি কোর্স সম্পন্ন করেও এখনো ১৩তম গ্রেডে থেকে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
এএইচ/এএইচ