২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩০ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জয়ী ছাত্রীদের নিয়ে হেনস্তা ও হয়রানির মাত্রা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে লেখক ও অনুবাদক আলী আহমাদ মাবরুর।
ডাকসু নির্বাচনের সময়কার বিকৃত পোস্টার, অশ্লীল মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের পর এবার আবারও তাদের বিরুদ্ধে অপমানজনক প্রচারণা চলছে, যা সবার জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন মুজাহিদপুত্র আলী আহমাদ মাবরুর। প্রতিপক্ষ নারীকে হেয় করার এমন প্রবণতা শুধু অসুস্থ রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ নয় বরং সামাজিক অবক্ষয়েরও প্রতিচ্ছবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিচে আলী আহমাদ মাবরুরের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
ডাকসুর নির্বাচিত ছাত্রীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে হেনস্তা ও মানসিকভাবে হয়রানি করার মাত্রা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। নির্বাচনের সময় এক ধরনের বাস্তবতা ছিল। তখন তাদের নিয়ে আজেবাজে পোস্টারিং করা হয়েছে, মুখচ্ছবি বিকৃত করা হয়েছে, কমেন্টে অশ্লীল সব মন্তব্য করা হয়েছে। কিন্তু এই সময়ে এসে আবারও আমাদের বোনদেরকে যেভাবে অপমান ও হয়রানি করা হচ্ছে তা নিতান্তই দুঃখজনক। আমরা সবাই এ জন্য লজ্জিত।
প্রথমে উম্মে ওয়াসাতুন রাফিয়ার সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা, নায়িকার সাথে জড়িয়ে তাকে অপমান, তার ময়মনসিংহের বাসায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরপর ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য সাবিকুন নাহার তামান্নার সন্তানের মা হওয়া নিয়ে জঘন্যতম ক্যাম্পেইন চালানো হয়। আর সর্বশেষ ফাতিমা তাসনিম জুমাকে নিয়ে নোংরা ভিডিও তৈরি করা হয়। তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। এ ধরনের আচরণগুলো কোনো ভদ্র ও সিভিলাইজড মানুষ করতে পারে না।
প্রতিপক্ষ হলেই তাকে হেয় করতে হবে আর এতটা নীচে নেমে করতে হবে- তার কোনো মানে নেই। এটা অসুস্থ চিন্তাধারা। যারা এগুলো করছেন, তারা সভ্য সমাজের স্বাভাবিক নিয়ম ও প্রথাগুলোকেও অবজ্ঞা করছেন। আর ইসলামের কথা যদি বলি, ইসলাম যুদ্ধকালীন সময়েও নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি স্পর্শকাতর হতে বলেছে। আমার মনে হয়, এই প্রজন্মের যাদের মনে অন্যান্য রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি কিছুটা সফট কর্নার ছিল, বা ভবিষ্যতে এই দলগুলোতে যাওয়ার আগ্রহ ছিল- তারাও এসব দেখে উল্টো আরো দূরে সরে যাবে। আমার আফসোস হয়, সবাই প্রতিপক্ষের একটিভিস্টদের সমালোচনা করে, তাদেরকে বটবাহিনী বা আল বটর বাহিনী বলে ক্রিটিসাইজ করে, কিন্তু নিজেদের দলের অ্যাক্টিভিস্টদের এসব নোংরামি নিয়ে সরব হন না। তখন সবাই যে যার মতো দলকানা হয়ে যাই।
অসুস্থ রাজনীতি, নোংরা মানসিকতা আর প্রতিপক্ষ নারীদের অসম্মানিত করার এই প্রবণতার অবসান হোক। আমাদের বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক- এটাই প্রত্যাশা করি।
এমআর