images

শিক্ষা / সাক্ষাৎকার

‘ফ্যাসিস্টদের পরিবর্তে নতুনদের নিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করা হবে’

১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:৫১ পিএম

images

১৯৭৯ সালে যাত্রা শুরু হয় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মূলধারা থেকে লক্ষ্যচ্যুত বিশ্ববিদ্যালয়টি। জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষা, গবেষণা, সেবা ও অন্যান্য সব ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য মনোনিবেশ করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে গড়তে সংকল্পবদ্ধ তিনি, যেখানে ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় হবে। ঢাকা মেইলকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংস্কার ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা মেইলের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি রাকিব রিফাত।

ঢাকা মেইল: জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে ইবির যেসব ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের নিয়ে কী ভাবছেন?

ড. নকীব নসরুল্লাহ: আইসিটিতে একটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গেছে, সেটা তারা দেখবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোড অব কন্ডাক্ট লঙ্ঘন যারা করে থাকে এবং কেউ যদি অভিযোগ পাঠায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা মেইল: স্বৈরাচারের দোসর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী ও ছাত্রলীগের কোটাধারী সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়ে কী ভাবছেন?

ড. নকীব নসরুল্লাহ: আমরা জানি সিন্ডিকেট সাধারণ সিলেকশনে করা হয়। তবে ইলেকশন সিন্ডিকেটেও কিছু পদ আছে তাদের ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ফ্যাসিস্টদের পরিবর্তে নতুনরা আসবে। আর নতুন সিন্ডিকেট নিয়ে ভাবছি।

ঢাকা মেইল: ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে আপনি কী ভাবছেন?

ড. নকীব নসরুল্লাহ: এমন রাজনীতি চাই যেখানে ছাত্ররা শিক্ষা সংস্কার ও প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করবে। হলগুলোতে কোনো ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য থাকবে না। এজন্য মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন করা হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ উপেক্ষা করে সামষ্টিক স্বার্থকে জোর দেয়াওর জন্য সকল ছাত্র সংগঠনকে আমি অনুরোধ করেছি।

islami

ঢাকা মেইল: ইবির মফিজ লেকের নাম পরিবর্তনের বিষয় ও প্রতিকৃতি স্থাপনের বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

ড. নকীব নসরুল্লাহ: মীর মুগ্ধ আমাদের একটি ইমোশনাল সম্পদ। আর মীর মুগ্ধের সঙ্গে পানির একটি সম্পর্ক রয়েছে। সেই দিক বিবেচনা করে একটি নাম প্রস্তাবনা এসেছে সেটি হলো মুগ্ধ সরোবর। এই লেকের নাম মফিজ কীভাবে এসেছে তা জানি না। তবে কোনো শিক্ষকের নাম থাকলে পরিবর্তনের চিন্তা করতাম না। আর মুগ্ধ সরোবর এই নামটি অফিসিয়াল কোন ঘোষণা করিনি। যদি এই নাম পরিবর্তনই হয় তাহলে এই আন্দোলন যারা প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছিল তাদের মাধ্যমেই হবে। আর মীর মুগ্ধের  প্রতিকৃতির বিষয়টি হলো একটি ছবি লোহার স্ট্যান্ডে ঝুলিয়ে দেব, এমন চিন্তা করেছিলাম। কোন মূর্তি এখানে স্থাপনের বিষয়ে আমি বলিনি। আর এ ধরনের কাজ আমি করব না।

ঢাকা মেইল: প্রধান ফটকে তালা লাগানোর বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছেন?

ড. নকীব নসরুল্লাহ: শিক্ষার্থীদের দাবি থাকবে। তার মানে এই না প্রধান ফটকে তালা দিতে হবে। যৌক্তিক উপায়ে এসব দাবির সমাধান করা যায়। এরপর এমন কিছু হলে প্রধান ফটক ভেঙে ফেলা হবে। আর কোনো বিভাগ শিক্ষার্থীদের প্রধান ফটকে পাঠালে তারা দোষী সাব্যস্ত হবেন। সবার উচিত প্রধান ফটক না আটকিয়ে নির্ধারিত পন্থায় কাজ করা।

ঢাকা মেইল: সমাবর্তনের বিষয়ে কোন ধরনের পদক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কিনা?

ড. নকীব নসরুল্লাহ: প্রেসিডেন্টকে নিয়ে আর কোনো সমাবর্তন হবে না। সমাবর্তন হবে অনুষদভিত্তিক যাতে অল্প খরচে দুটি সমাবর্তন করা যায়। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটিসহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলে এটি বাস্তবায়ন করা যায় কি না প্রস্তাবনা দেব। যেটি দেশের বাইরে প্রচলিত আছে। এমন করলে সহজেই সমাবর্তন করা সহজ।

ঢাকা মেইল: এই প্রতিষ্ঠান তার মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে গেছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিকে তার মূল লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে আপনার ভূমিকা কী থাকবে?

ড. নকীব নসরুল্লাহ: এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় সাধন করে উন্নত শিক্ষায় অবদান রাখা। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে সংশ্লিষ্ট ইসলামী শিক্ষা ও থিওরি সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেইসঙ্গে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিভাগ খোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ওআইসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রথম পর্যায়ে যেভাবে সহযোগিতা পেত সেটি পুনস্থাপিত করার চেষ্টা করছি।

ঢাকা মেইল: বিগত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব দুর্নীতি তদন্তে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

ড. নকীব নসরুল্লাহ: যারা দুর্নীতি করেছে তারা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য কুঠারাঘাত করেছে। অবশ্যই তাদেরকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে সাব্যস্ত করা হবে। কারণ শাস্তি না পেলে ভবিষ্যতে তারা আরও প্রশ্রয় পাবে। শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ আর্থিক ক্ষেত্রে যারা দুর্নীতি করেছেন তাদের বিষয়ে অতিদ্রুত তদন্ত করা হবে।

প্রতিনিধি/এমআর