Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

মেডিকেল মোড়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতেন ছাত্রলীগের নেতারা

১৮ আগস্ট ২০২৪, ১০:২৯ পিএম

ঢাকা মেডিকেল এলাকার ভাসমান দোকান ও রেস্টুরেন্টে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। 

সম্প্রতি ঢাকা মেইল অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ছাত্রলীগ নেতা হচ্ছেন— মাজহারুল ইসলাম আকাশ, দেওয়ান বায়জিদ আহমেদ, ও আসিফ আহমেদ। আকাশ ও বায়জিদ ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী ছিলেন, আর আসিফ আহমেদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান সম্পাদক। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই তিন নেতা ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। সপ্তাহে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়, এবং বড় দোকান হলে তা ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। চাঁদা না দিলে দোকান সরিয়ে দেওয়ার হুমকি, মারধর, এবং গালাগালির সম্মুখীন হতে হয়।

ঢাকা মেডিকেলের রেডিওলজি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ভাসমান দোকানদারদের কাছ থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিনশ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়। চাঁদাবাজরা দিনের বেলা চাঁদা নেন না, রাতে এসে চাঁদার দর কষাকষি করেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আনাস হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর অন্তত ৭০,০০০ টাকা চাঁদা দেয়। ঈদ উপলক্ষে এই চাঁদার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। কর্মচারীরা জানান, চাঁদাবাজরা রাতের বেলা এসে শাটার বন্ধ করে চাঁদার দর-কষাকষি করে এবং টাকা না দিলে মারধর করে। 

অন্তত একশ থেকে দেড়শ কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাদের দুর্ব্যবহারের কারণে। হোটেলটিতে খাবার খেয়ে কম টাকা পরিশোধ করার অভিযোগও রয়েছে। 

এছাড়া গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর থেকে চাঁদাবাজির ঘটনা কিছুটা কমে গেছে। তবে আনাস হোটেলসহ কিছু দোকানে এখনো ফ্রি খাবার নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন চান।