বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০১ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:১৩ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য রাতের আঁধারে বিভিন্ন প্রজাতির ৫৬টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
বুধবার (১ নভেম্বর) ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) পূর্ব পাশে বিজ্ঞান কারখানার সংলগ্ন সুন্দরবন নামক স্থানে গাছগুলো কাটা হয়েছে। জানতে পেরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ওই নির্ধারিত স্থানে যান। সেখানে ওই ইন্সটিটিউটের ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের নামফলক শিক্ষার্থীরা ভেঙে দেন।
এরপর দুপুর দেড়টার দিকে আরেকদল শিক্ষার্থী সেখানে নতুন ১১টি গাছ লাগিয়ে দেন। দুপুর ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা গাছের গুড়িতে কাফনের কাপড় পরিয়ে প্রতীকী লাশ বানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরে তামীম স্রোত বলেন, এতগুলো গাছ কাটা হয়েছে কিন্তু প্রশাসন বলছে তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না। তাহলে কি বহিরাগতরা এসে গাছ কেটে গেছে? আর যদি প্রশাসন না জেনে থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষীরা তখন কি করছিল সে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আর যদি প্রশাসন জেনে থাকে তাহলে কেন কাউকে না জানিয়ে গাছ কাটা সে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে হবে। প্রশাসন যদি আমাদেরকে জবাবদিহি না করে এবং আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে আমরা আরও বড় অবরোধ কর্মসূচিতে যাব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।
নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটা হলে সেসব গাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট কার্যালয়কে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। তবে গাছ কাটার পর কয়েকঘণ্টা পার হলেও কাটা গাছগুলো এস্টেট কার্যালয়কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে এস্টেট কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্টার আবদুর রহমান বাবুল বলেন, নিরাপত্তা শাখার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে জেনেছি সেখানে আজ গাছ কাটা হয়েছে। গাছ কাটার কথা আইবিএ ইন্সটিটিউট থেকে জানানো হয়নি। কাটা গাছগুলো আমাদের এখনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ইন্সটিটিউট থেকে গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে আমাদের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেটার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু আজকে আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে আইবিএ পরিচালক অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, গাছগুলো এস্টেট অফিসকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। গাছগুলো ক্যাম্পাসেই থাকার কথা। কোথায় রাখা আছে আমি জানি না।
রাতের আঁধারে গাছ কাটা হলো কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐখানে ভবন করার জন্য সাবেক উপাচার্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিল। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় টেন্ডার হয়েছে। ওয়ার্কঅর্ডার যারা পেয়েছেন তারা গাছগুলো কেটেছে। এখন তাদের যে সময় উপযুক্ত মনে হয়েছে বা শ্রমিক ছিল তখন কাজ করেছে।
এ বিষয় জানতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে এবং টেলিফোনে কয়েক দফায় কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
প্রতিনিধি/এসএস