images

অর্থনীতি

বেতন-বোনাসের ‘অপেক্ষায়’ পীর ইয়ামেনির ব্যবসায়ীরা

বোরহান উদ্দিন

০৫ এপ্রিল ২০২৩, ০৯:০৪ পিএম

রাজধানীর যেসব বিপনী বিতানে ঈদ বা যে কোনো উপলক্ষে পাঞ্জাবির জন্য বেশি ভিড় করে থাকেন ক্রেতারা তার মধ্যে গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনি মার্কেট অন্যতম। পাইকারির পাশাপাশি এখানে তুলনামূলক কমদামে পাঞ্জাবি-পায়জামা কেনার সুযোগ থাকায় অনেকেই অন্যান্য কেনাকাটা শেষে এখানে ঢুঁ মারেন। কিনে নেন পছন্দের পাঞ্জাবি। তবে অর্ধেক রমজান হতে চললেও এখনো পীর ইয়ামেনিতে ক্রেতার চাপ নেই।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতাদের পছন্দের পাঞ্জাবি নিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। তবে আগামী শুক্রবার অর্থাৎ মাসের প্রথম সপ্তাহ শেষ হলে বেশিরভাগ চাকরিজীবীদের বেতন-বোনাস হয়ে গেলে ক্রেতা উপস্থিতি বাড়বে এমন প্রত্যাশা তাদের।

যদিও পাইকারি বিক্রির ক্ষেত্রেও অন্য বছরের তুলনায় বিক্রি কম বলে জানালেন একাধিক বিক্রেতা। নিয়মিত ক্রেতাদের মধ্যে অনেকে আগের চেয়ে কিছুটা কম বাজেটে পাঞ্জাবি খুঁজছেন বলেও জানান দোকানিরা।

শুধু পীর ইয়ামেনিতেই নয়, এই মার্কেট লাগোয়া আরও একটি পাঞ্জাবির মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় মোটামুটি লক্ষ্য করা গেছে। এখানে অবশ্য পীর ইয়ামেনির চেয়েও কিছুটা কম দামে পাঞ্জাবি কেনার সুযোগ আছে।

পীর ইয়ামেনি মার্কেটের ‘কোয়ালিটি পাঞ্জাবি’র দোকানের কর্মী মেহেদী হাসান রুবেল ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাদের মালিকের এই মার্কেটে সাতটি দোকান। চিটাগাং রোডেও দোকান আছে। কিন্তু এবার অন্য সময়ের চেয়ে বিক্রি অর্ধেক এখন পর্যন্ত। তবে আগামী শুক্রবার থেকে বিক্রি ভালো হবে আশা করি।’

dm

ভালো বিক্রির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত শুক্রবার বন্ধের দিন হওয়ায় অনেকে চাইবেন সুযোগটা কাজে লাগিয়ে কেনাকাটা করে নিতে। আর প্রথম সপ্তাহ শেষ হলে এখনো যারা বেতন-ভাতা পায়নি তাদের হাতে টাকা পয়সা চলে আসবে।’

তবে মঙ্গলবার বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডের কারণে ক্রেতার আনাগোনা কমতে পারে এমন ধারণাও করছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (০৫ এপ্রিল) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনি মার্কেটের তিনতলা জুড়ে পাঞ্জাবির বিশাল সমাহার। মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সব ধরণের ক্রেতাদের পছন্দের মার্কেট এটি। কারণ এখানে মোটামুটি সুলভমূল্যেই পাঞ্জাবি বিক্রি হয়।

পীর ইয়েমেনি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, এখানে পাঞ্জাবির দোকানের সংখ্যা ১০৩টি। সব দোকানই পাইকারি বিক্রেতা। এখানে খুচরাও কেনা যায়। ব্রান্ডের অনেক দোকানে এখান থেকে পাঞ্জাবি নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করলেও এখানে অপেক্ষাকৃত কম দামে পছন্দের পাঞ্জাবি কেনা যায় বলে মানুষের ভিড় থাকে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি বেশি চলছে। তবে এই মার্কেটে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্তও পাঞ্জাবির দাম আছে।

dm

কোন ধরণের পাঞ্জাবি মিলে পীর ইয়ামেনিতে?
ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে অল্প কিছু আছেন যারা বিদেশ থেকে সরাসরি তৈরি করা পাঞ্জাবি আনেন। বেশিরভাগই ভারতের পাঞ্জাবি। কেউ আবার ভারত থেকে কাপড় আমদানি করে দেশে নিজেদের কারখানায় তৈরি করেন। আবার পুরোটাই দেশীয় কাপড়ের পাঞ্জাবি আছে এখানে। ফলে কাপড় ও অন্যান্য খরচ বাড়ায় দাম পাঞ্জাবির দাম ওঠানামা করে।
  
দোকান ঘুরে ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশিরভাগ দোকানে ভারতীয় সুলতানসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি আছে। বিশেষ করে পার্টি পাঞ্জাবি যেগুলো তার অনেকগুলো ভারতের।

এছাড়া ঈদের পাঞ্জাবির কাপড়ের মধ্যে রয়েছে- টিজি মটকা, সুতি, রাজশাহী সিল্ক, আদি, মহিশুর সিল্ক, এনডি সিল্ক, প্রিন্স সামসী, ক্রুশান, কাসিস, খানশা, শাহজাদা আদি, জয়শ্রী সিল্ক, এনডি কটন, ইন্ডিয়ান সিল্ক, জাপানি ইউনিটিকা, তসর, সামু সিল্ক, অরবিন্দ ধুতি, ধুতিয়ান, ইন্ডিয়ান চিকেন নানা রঙ ও ডিজাইনের পাঞ্জাবি পাওয়া যায় এই মার্কেটে।

শুধু পীর ইয়ামেনিতেই নয়, এই মার্কেট লাগোয়া আরও একটি পাঞ্জাবির মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় মোটামুটি লক্ষ্য করা গেছে। এখানে অবশ্য পীর ইয়ামেনির চেয়েও কিছুটা কম দামে পাঞ্জাবি কেনার সুযোগ আছে।

এছাড়াও গায়ে হলুদসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য কম দানে এক ধরণের পাঞ্জাবি কেনারও সুযোগ আছে এখানে।

dm

পাঞ্জাবি প্রতি দাম বেড়েছে দুই থেকে পাঁচশ  
অন্যান্য দ্রব্যের মতো পাঞ্জাবি তৈরির সব ধরণের উপকরণেরও দাম বেড়েছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ভারত থেকে আনা পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে আমদানি খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় বাইরের পাঞ্জাবিতে দাম বেড়েছে। এছাড়াও কাপড়ের গজ, বোতাম, সুতা, ওয়াশ এবং লন্ড্রি খরচ বেড়েছে। যে কারণে গতবছরের তুলনায় এবার প্রতি পাঞ্জাবি কম হলেও দুই থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

পীর ইয়ামেনি মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতির দোকান সাদ ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক মো. তারেক ঢাকা মেইলকে বলেন, কাপড়, সেলাই, ওয়াশ, লন্ড্রি সব কিছুর খরচ বেড়েছে। এলসির খরচের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। যে কারণে প্রতিটি পাঞ্জাবিতে দাম বেড়েছে।

কেমন দাম বেড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দোকানে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঞ্জাবি আছে। আগের চেয়ে হয়তো ২ থেকে ৩শ টাকা বেশি দাম এখন। আবার দামের ক্ষেত্রে গ্রাহকের বাজেটের কথাও মাথায় রাখতে হয়। যে কারণে লাভের অংকও কমে গেছে।’

তবে দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সরাসরি ভারত থেকে তৈরি পাঞ্জাবি যেসব ব্যবসায়ী নিয়ে আসেন সেসব পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে দাম আরও বেশি বলে জানা গেছে।

dm

মুন্সিগঞ্জের শহিদুল ইসলাম স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পাঞ্জাবি নিতে এসে দাম নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ জানালেন। ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘গত ঈদে ১ হাজার টাকার পাঞ্জাবি ১৫শ টাকার কম দিচ্ছে না । এভাবে হলে তো পাঞ্জাবি ছাড়া ঈদের কথা ভাবতে হবে।’

ক্রেতাদের এমন সমস্যার কথা উঠে এসেছে মার্কেটে তুলনামূলক ভালো ও দামি পাঞ্জাবির দোকান হিসেবে পরিচিত রীম এন্টারপ্রাইজ ও পুতুল পাঞ্জাবির মালিকদের কণ্ঠে। তারা বলছেন, খরচ বেশি হলেও তারা চেষ্টা করছেন দাম সহনীয় রাখতে। কারণ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকে বাজেট সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। তাই দাম বেশি হলে বিক্রি কমে আসবে।

পীর ইয়ামেনি মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘অন্য বছরের তুলনায় জিনিসপত্রের দাম বেশি, বিক্রিও কম। এখন পর্যন্ত অন্তত গতবছরের চেয়ে ৩০ ভাগ বিক্রি কম। এরমধ্যে বঙ্গবাজারে আগুনের কারণেও প্রভাব পড়বে। তারপরও সামনের সপ্তাহে মূল বিক্রির আশা করা হচ্ছে।’

বিইউ/এএস