Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

মোহাম্মদপুরের বাজারগুলোতে চড়া ব্রয়লার ও মাছের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ মার্চ ২০২২, ১১:৫২ এএম

শীতে ব্রয়লার মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ছিল। এখন শীত পেরিয়ে গরম পড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যটির দামে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। একই সঙ্গে নানা অজুহাতে বেড়েছে সবধরনের মাছের দামও। 

শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর নতুন কাঁচাবাজার (কৃষি মার্কেট), শিয়া মসজিদ বাজার, নবোদয় হাউজিং বাজার ও আদাবর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মুরগির বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরম বাড়তেই ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে ব্রয়লারের দিকে। আর সে সুযোগটা ১৬ আনা কাজে লাগাতে চান ব্যবসায়ীরা। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়াচ্ছেন দাম। এ সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা কেজি দরে। 

গত সপ্তাহের বাজার দরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সাত দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লারের দাম। 

একই সঙ্গে বেড়েছে সোনালি বা পাকিস্তানি কক মুরগির দাম। বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা কেজি করে। আর প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি কিনতে কেজি প্রতি গুনতে হচ্ছে ২৪০ টাকা। 

গত সপ্তাহের বাজারদরের চিত্র বলছে, গত শুক্রবার রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকায় আর লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২২৫ থেকে ২৩০ টাকা দরে।

মাছ বাজারের চিত্র

রাজধানীর মাছের বাজারে সপ্তাহে নয়, দাম বাড়ে প্রতিদিন। এমন অভিযোগ মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের। মোহাম্মদপুর নতুন কাঁচা বাজারে ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো প্রতি সপ্তাহের বাজারদর জানান। মাছের দাম সপ্তাহে বাড়ে না। প্রতিদিনই বাড়ে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মাঝারি সাইজ রুই মাছ কিনেছি ২৮০ করে। দেখেন আজ কেউ এই দামে দেয় কি না?’

Bazar-3

মিজানুর রহমানের কথার সঙ্গে বাজারদরের মিল খুঁজে পাওয়া গেল। গত সপ্তাহে মাঝারি আকারের রুই ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ বাজার ঘুরে দেখা গেল, ৩২০ টাকার কমে রুই মাছ মিলছে না। 

আবার ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছের বাজারে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম ওঠানাম করে। সকালে যে দাম থাকে, বিকালে সে দাম থাকে না। বাজার ভরা ক্রেতা থাকলে দাম এক রকম, আর বাজারে ক্রেতা কম থাকলে দাম কমে যায় প্রায় এক তৃতীয়াংশ। 

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোহাম্মদপুর ও আদাবরের মাছের বাজার থেকে পাওয়া তথ্য মতে, নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে, রুই মাছ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছ ১৪০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

এছাড়া ধরনভেদে শিং বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে, আকারভেদে চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকায়, কাচকি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ও পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। 

ইলিশ ধরা বন্ধের মৌসুমেও বাজারে ইলিশের ঘাটনি নেই। সরবরাহ থাকলেও ইলিশ ধরা বন্ধ আছে এমন অজুহাতে বেড়েছে দাম। 

এক কেজি আকারের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে হাজার থেকে ১৫০০ টাকায়। ছোট ইলিশ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

কারই/জেবি