নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ এএম
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বাড়তি দামের চাপ আরও বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরেও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। ফলে দুই মাসে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে মোট ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। অক্টোবর মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম। অন্যদিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কিছুটা কমেছে শাকসবজির দাম।
রোববার (৮ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ভোক্তা সংগঠন কনজুমারস ফোরাম (সিএফ)। সংগঠনটির সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বাজার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
সিএফের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অক্টোবর মাসে মাছের দাম গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে। মসলার মধ্যে লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরার দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, চিনির দাম ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভোজ্যতেল ও ডালডার দাম ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে চালের দাম গড়ে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ, আটা-ময়দার দাম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, ডিমের দাম ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, চায়ের দাম শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মাংসের দাম শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে সাত ধরনের পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ-টুথপেস্ট, চানাচুর-বিস্কুট, ১১টি ব্র্যান্ডের নিত্যব্যবহার্য ওষুধ এবং খাতা-কলম।
তবে অক্টোবর মাসে দুই ধরনের পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে শাকসবজির দাম ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।
কম দামে কৃষকের সবজি, ঢাকায় কয়েক গুণ বেশি
সিএফের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যশোর, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলে শীতকালীন শাকসবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। এতে উৎপাদন পর্যায়ে সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কৃষকেরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬ থেকে ১২ টাকা, মুলা ৬ থেকে ৮ টাকা, প্রতিটি লাউ ৮ থেকে ১০ টাকা এবং কলার হালি ৫ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই পণ্য ঢাকার বাজারে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা এবং কাঁচকলার হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ
নিত্যপণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভোক্তা সংগঠনটি। সংগঠনটির মতে, শুধু বেতন-ভাতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। বাড়িভাড়া, দোকানভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ও মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।
পাশাপাশি অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিএফ। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
সিএফ আশা প্রকাশ করেছে, সরকার গ্রাম পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের উৎপাদনমূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ের দাম সহনীয় রাখতে কার্যকর বাজার তদারকির ব্যবস্থা করবে। এ ক্ষেত্রে বাজার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মীনা বাজার ও স্বপ্ন সুপার শপ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে কনজুমারস ফোরাম।
এমআর/এএস