জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২২ পিএম
ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা জোরদার এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বাড়াতে যৌথ কৌশল প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্ট সংগঠন। এ লক্ষ্যে ‘জয়েন্ট স্ট্র্যাটেজি স্টেটমেন্ট ২০২৭’ নামে একটি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব বণ্টন এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগ (এএমএলডি) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার্স অব ফাইন্যান্স কোম্পানিজ ইন বাংলাদেশ (এএসিওএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি ক্যামেলকো কনফারেন্স-২০২৬’-এ এ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. সারোয়ার হোসেন। এতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগের পরিচালক এ টি এম কামরুল কবীর ভূঞা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মোকসুদুজ্জামান ও মো. হারুন-অর-রশীদ এবং এএসিওএফের সভাপতি মাহবুব-উল-কাদের।
সম্মেলনে প্রণীত ‘জয়েন্ট স্ট্র্যাটেজি স্টেটমেন্ট ২০২৭’-এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর প্রথমটি হলো ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন কি প্রায়োরিটিজ, রেসপনসিবিলিটিজ অ্যান্ড অ্যাকশন পয়েন্টস’। এর মাধ্যমে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে প্রধান অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর পৃথক দায়িত্ব এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কর্মপরিকল্পনা মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো ‘ক্যামেলকো-এফসি জয়েন্ট স্ট্র্যাটেজি স্টেটমেন্ট’। ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এটি যৌথ অঙ্গীকারনামা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে আর্থিক খাতে কমপ্লায়েন্সের মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি (রিস্ক-বেইজড অ্যাপ্রোচ) অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের এএমএল/সিএফটি রেটিংয়ের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত এবং যথাযথভাবে প্রতিবেদন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) ও সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন (এসএআর) সঠিকভাবে প্রস্তুত ও দাখিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ফাইন্যান্স কোম্পানি সুপারভিশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক দেবাশীষ সরকার, ফাইন্যান্স কোম্পানি রেগুলেশন্স অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক স্বরূপ কুমার চৌধুরী অংশ নেন। এ ছাড়া মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি/সিইও), প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (ক্যামেলকো) এবং উপপ্রধান ক্যামেলকোরাও সম্মেলনে অংশ নেন।
দেশকে আর্থিক অপরাধের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং নিরাপদ, স্বচ্ছ ও টেকসই অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ, সমন্বয় ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
টিএই/এএম