নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে উঠছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। তবে সরবরাহ বাড়লেও দামে স্বস্তি ফিরছে না। অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও টমেটোর মতো কিছু সবজির দাম আরও বেশি। গত কয়েক দিনের তুলনায় দু-একটি সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাছ ও মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর ৬ ও মিরপুর ৬০ ফিট এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে আলুর কেজি ৩০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁকরোল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর কেজি ১২০ টাকা এবং রসুনের কেজি ১২০ থেকে ২০০ টাকা। প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৮০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও বাজারে দাম কমার গতি ধীর। কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের অবস্থায় রয়েছে। বেগুন ও টমেটোর মতো সবজি কিনতে ক্রেতাদের তুলনামূলক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ফলে বাজারে সবজির উপস্থিতি বাড়লেও পরিবারের দৈনন্দিন খাবারের খরচ কমছে না।
বিক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম কমানোর ক্ষেত্রে পাইকারি ক্রয়মূল্য ও পরিবহন খরচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা পর্যায়ে দাম কমানো কঠিন। তবে সরবরাহ বাড়ার পরও কেন অধিকাংশ সবজির দাম প্রত্যাশিত হারে কমছে না, তা বুঝতে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের তুলনা প্রয়োজন।

মাছ-মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই
সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের বাজারেও দাম কমার তেমন লক্ষণ নেই। তথ্য অনুযায়ী, দেশি মুরগির কেজি ৬৬০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা।
মাছের বাজারে রুই মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা। আকারভেদে তেলাপিয়া ও বড় পাঙ্গাসের কেজি ৩০০ টাকা। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা এবং মলা মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে।
মাছ ও মাংসের এসব দাম আগের মতোই রয়েছে। ফলে সবজির পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষ কিনতেও ক্রেতাদের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় মাছ, মাংস ও বিভিন্ন সবজি রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না আশানুরূপভাবে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কয়েকটি সবজির দাম বেশি বলে মনে করছেন তারা।
পটলের দাম নিয়ে এক ক্রেতা জানান, গত বছর একই সময়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পটল কিনলেও এবার দাম অনেক বেশি। মাসের শুরুর দিকে পটলের দাম ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছিল।
আরেক ক্রেতার তানজিম হাসান জানান, সবজি, মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের দাম মিলিয়ে সংসারের ব্যয় বেড়েছে। আয় অনুযায়ী খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে আরও বেশি আর্থিক চাপে পড়তে হবে ।
এএইচ/এএস