Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

পোশাক খাতে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে ৪৮০ কোটি ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে এবং দেশের তৈরি পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি। ২০২৫ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এ খাতে প্রায় ৬৬০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪৮০ কোটি ডলার, যা মোট চাহিদার প্রায় ৭৩ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘আনলকিং গ্রিন ফাইন্যান্স পাথওয়েজ ফর বাংলাদেশ’স আরএমজি সেক্টর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান খালেদ ফয়সাল। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে পরিবেশবান্ধব করে তুলতে টেকসই অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এবং এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লাইটক্যাসল পার্টনার্সের বিজনেস কনসালট্যান্ট সাকিনা বিনতে বেলায়েত। এতে বক্তব্য দেন জালো নিটিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরিয়া লোপেজ, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ, সিটি ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও টেকসই অর্থায়ন বিভাগের অপারেশনাল প্রধান মোল্লা কারিমুল ইসলাম, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাজমুল হক, শাশা ডেনিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাইফ হোসাইন এবং ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইএসজি এবং টেকসই অর্থায়নবিষয়ক প্রধান তাশমিম মুনতাজির চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রিন্সিপাল বিজনেস কনসালট্যান্ট সৌমিক শাহরিয়ার পোশাক খাতে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের ঘাটতি, অর্থায়ন পেতে বিদ্যমান বাধা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

আলোচনায় বক্তারা পোশাক খাতে অর্থায়ন পাওয়ার শর্ত ও নিয়মকানুন সহজ করা, টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতে অর্থায়ন বাড়ানো এবং সরকারি ঋণের নিশ্চয়তা দেওয়ার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারত্ব জোরদার, ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোকে টেকসই উৎপাদনব্যবস্থায় যুক্ত করা এবং নারী পোশাকশ্রমিকদের জীবিকা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অবস্থান সম্প্রসারণে টেকসই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পমালিক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে পোশাক কারখানায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ‘অপরাজিতা দ্বিতীয় পর্যায়: জাস্ট ট্রানজিশন ফর উইমেন ইন দ্য আরএমজি ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লাইটক্যাসল পার্টনার্স ‘বুনন ২০৩০’ শিরোনামে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নারী পোশাকশ্রমিকদের জীবিকা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এতে প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন।

টিএই/এএস