Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

এলপিজিতে কমিশন বাড়ানোর দাবি আমদানিকারক-বিক্রেতাদের, চলছে শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

এলপিজি বাজারে দেড় মাস ধরে অস্থিরতা চলছে। সরবরাহসংকটের সুযোগে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এর মধ্যেই এলপিজি বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। তাদের প্রস্তাব পর্যালোচনায় গণশুনানি করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার বিয়াম মিলনায়তনে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন আমদানিকারক কোম্পানি ও পরিবেশকের প্রতিনিধিরা নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে আমদানিকারকদের কমিশন ৩০০ টাকার বেশি এবং পরিবেশকদের ১৫০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দেশে সক্রিয় ৩৫টি কোম্পানির মধ্যে ২৩টির এলপিজি আমদানির অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে। তবে গত মাসে আমদানি করেছে মাত্র ১০টি কোম্পানি। এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ১২ কেজির সিলিন্ডারে বর্তমান কমিশন ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা এবং ডেল্টা ৩৬০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে মেঘনা গ্রুপ কমিশন ৩০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

পরিবেশকেরা সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার আবেদন জানিয়েছেন। এ ছাড়া অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গণশুনানিতে মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগে জাহাজভাড়াসহ প্রিমিয়াম ছিল প্রতি টনে ৮০ থেকে ১২০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ২৫০ থেকে ৪০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এমন দাম নির্ধারণ করা উচিত, যাতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ না থাকে।

এর আগে, কমিশন বাড়ানোর দাবিতে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানির উদ্যোগ নেয় বিইআরসি। এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর ১৪ অক্টোবর কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। ওই দিনই গণশুনানির ঘোষণা দেয় বিইআরসি।

দেশের এলপিজি বাজারের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। গণশুনানির মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের সূত্র চূড়ান্ত করে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে বাজারে গ্যাস বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রায়ই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

চলতি মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের তা কিনতে হচ্ছে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়।

অনুমতি থাকা সত্ত্বেও যেসব কোম্পানি আমদানি করতে পারছে না, তাদের সমস্যাও শুনানিতে তুলে ধরা হয়। ওরিয়ন গ্যাস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার অনুপ কুমার সেন বলেন, নতুন বাস্তবতায় ১০টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। ফলে তাদের অবকাঠামো অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে এবং বাজারে সিলিন্ডারের সংকট তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, অন্য কোম্পানির কাছ থেকে এলপিজি কিনে বিইআরসির নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে পাইকারি দাম নির্ধারণের দাবি জানান তিনি। তার মতে, পাইকারি দাম নির্ধারণ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট কমবে এবং অন্যায্য দাম নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে।

পরিবেশকদের পক্ষে মেসার্স উজ্জল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনি মুক্তা পাল বলেন, আমদানিকারকেরা যেসব ব্যয় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন, পরিবেশকদের ক্ষেত্রেও একইভাবে খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি অব্যবহৃত সিলিন্ডারের বোঝাও বহন করতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় প্রতি সিলিন্ডারে পরিবেশকদের কমিশন ১৫০ টাকা করার দাবি জানান তিনি। তার ভাষ্য, এই দাবি পূরণ না হলে বাজারে দাম কমবে না।

অটোগ্যাস সমিতির সভাপতি সিরাজুল মাওলা বলেন, দেশে দুই লাখের বেশি গাড়ি এলপিজি দিয়ে চলে। ২০২১ সালে অটোগ্যাসের কমিশন প্রতি লিটারে আট টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও কমিশন বাড়েনি। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে।

তিনি জানান, রাজশাহীর সাদ স্টেশনে প্রতি মাসে ৪৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। শহরের কিছু স্টেশন লাভজনক হলেও প্রায় ৮০ শতাংশ স্টেশন লোকসানে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে প্রতি লিটারে কমিশন ১১ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

শুনানিতে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করে বিইআরসির গঠিত কারিগরি কমিটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করছে। এরপর প্রস্তাবগুলোর ওপর যুক্তিতর্ক হবে। শুনানি শেষে শিগগিরই এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণা করতে পারে কমিশন।

এম/এসআই