নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, নারায়ণগঞ্জ।
২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের সুতা বিক্রির হিসাব পর্যালোচনা করে এ রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের তানবাজার এলাকার এস এম মালেহ রোডে অবস্থিত জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিং একটি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের নিবারক দল আকস্মিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে। এ সময় দোকানে মজুত পণ্য ও হিসাব ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাটসংক্রান্ত দলিলাদি দেখাতে পারেনি।
পরে প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন রেজিস্টার, খাতা, চালান বই, গার্ড ফাইল, কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যের এক্সেল কপি এবং একটি বিবৃতি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির স্বাক্ষরসহ জব্দ করে দপ্তরে নেওয়া হয়। এসব নথি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, জব্দ করা নথি অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট সুতা বিক্রির পরিমাণ ৬৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকা। এর বিপরীতে ৫ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাটের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪২ টাকা।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাখিল করা ভ্যাট রিটার্নে (মূসক-৯.১) প্রতিষ্ঠানটি মোট বিক্রি দেখিয়েছে ৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩০ টাকা। একই সময়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা।
এ হিসাবে প্রযোজ্য ভ্যাটের অর্থ থেকে জমা দেওয়া রাজস্ব বাদ দিয়ে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিক্রির সময় ভ্যাট চালান ইস্যু না করা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারা এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে পরিহার করা ভ্যাট, জরিমানা এবং আইন অনুযায়ী সুদ আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এমআর/এএইচ