Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

জাপানের বাজারে পোশাক রফতানিতে ‘নতুন সম্ভাবনা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ানোর ‘নতুন সম্ভাবনা’ তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটিতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে দেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানিতে জাপানের অংশ বেড়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে এক হাজার ৫৮ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানের বাজারে গেছে ৩৪৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক। বৈশ্বিক পোশাক আমদানিতে জাপানের বড় বাজার এবং বাংলাদেশের রফতানিতে দেশটির ক্রমবর্ধমান অংশ বাজারটিতে রফতানি সম্প্রসারণের সুযোগ তুলে ধরছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দেশটির বড় আমদানি বাজার এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রফতানি জাপানের অংশ বৃদ্ধি এ সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে বাজার বৈচিত্র্য বাড়বে এবং প্রচলিত বাজারগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।’

তবে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটিতে ১১৫ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়। পরের অর্থবছরে রফতানি পাঁচ দশমিক আট শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নয় দশমিক এক শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছালেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবার চার দশমিক তিন শতাংশ কমে ১১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

গত অর্থবছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক তৈরি পোশাক রফতানিতেও নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতের রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় এক দশমিক ছয় শতাংশ কমে তিন হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে নেমে আসে। এতে মোট পোশাক রফতানিতে জাপানের অংশ কমে দুই দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ অংশ বেড়ে তিন দশমিক ২৫ শতাংশ হওয়ায় বাজারটিতে বাংলাদেশের অবস্থান সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জাপানের পোশাক আমদানির পরিসংখ্যানেও বাজারটির ব্যাপকতা স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত জাপান দুই হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করে। পরের ১২ মাসে আমদানি সাত দশমিক তিনি শতাংশ কমে দুই হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে নেমে আসে। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি তিন দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে দুই হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও এক দশমিক দুই শতাংশ বেড়ে দুই হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে জাপান ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। বিশাল এ বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ, নতুন ক্রেতা তৈরি এবং বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়াতে পারলে রফতানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রচলিত বাজারগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোও সম্ভব হতে পারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রফতানির অংশ বৃদ্ধি সেই সম্ভাবনাকেই সামনে এনেছে।

এমআর/এসআই