জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে আন্তর্জাতিক পুঁজি আনতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি খাতের রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগ সহায়ক অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদার সঙ্গে দেশের জ্বালানি খাতের অগ্রাধিকারের সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছে বাংলাদেশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) কাতারের দোহায় ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম (ডব্লিউআইএফ) ২০২৬-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন কনফারেন্স’-এর মন্ত্রীপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
‘জলবায়ু অগ্রাধিকার থেকে বিনিয়োগ: জ্বালানি রূপান্তর প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক আলোচনায় জলবায়ু অঙ্গীকার ও জ্বালানি খাতের অগ্রাধিকারকে কীভাবে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়ার উপযোগী এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রকল্পে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর যোগাযোগ সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধীনে বিনিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে একটি কাঠামোর আওতায় আনা চ্যালেঞ্জিং প্রশাসনিক কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে সংস্থাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিচ্ছিন্নতা দূর করা জরুরি।
তার মতে, এ ধরনের সমন্বিত কাঠামো বিনিয়োগ উন্নয়ন, নীতি গবেষণা, শিল্পভিত্তিক জমির উন্নয়ন এবং লেনদেনসংক্রান্ত কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে। এতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় উন্নত হলে বিশেষ করে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে জমি পাওয়া, নিয়ন্ত্রণমূলক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রকল্প প্রস্তুত করার দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে আশিক চৌধুরী বলেন, বাণিজ্যিক আকারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও গ্রিড অবকাঠামো শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায় বাংলাদেশ।
এসব খাতে দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে অর্থায়নযোগ্য প্রকল্প তৈরি, উপযুক্ত জমির নিশ্চয়তা এবং সুস্পষ্ট ও অনুমেয় নীতিকাঠামো প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আশিক চৌধুরী জানান, সমন্বিত বিনিয়োগ উন্নয়ন কাঠামো আন্তর্জাতিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লাভজনক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয়ও বাড়াবে।
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এই ফোরামে।
বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, উন্নত প্রকল্প প্রস্তুতি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুঁজি আকর্ষণ, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে ফোরামে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।
টিএই/এএস