Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

তিন মাসে তলানিতে এডিপি বাস্তবায়ন, খাতা খোলেনি ৩ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

  • এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ৩.৮৯ শতাংশ
  • তিন মাসে ব্যয় ১২ হাজার ১৭ কোটি টাকা
  • ব্যয়ের খাতা খুলতে পারেনি সেতু বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  • বিদেশি ঋণের তুলনায় সরকারি তহবিলের ব্যয় বেশি
  • পাঁচ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নামমাত্র অর্থ ব্যয় করেছে
  • গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১.২০ শতাংশ পয়েন্ট

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নেমেছে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশে, যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এডিপির বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১৭ কোটি টাকা। এ সময়ে তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ২ শতাংশেরও নিচে রয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১৭ কোটি টাকা। ফলে প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল।

গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার কমেছে ১ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট। এর আগের তিন অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায়ও বাস্তবায়নের হার কম। একক মাস হিসেবেও সেপ্টেম্বরে এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই মাসে এ হার ছিল ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, অর্থবছরের তৃতীয় মাসেও আগের বছরের তুলনায় বাস্তবায়নের হার কমেছে।

এডিপির অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিদেশি ঋণের তুলনায় সরকারি তহবিল থেকে ব্যয়ের হার বেশি। প্রথম তিন মাসে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৫৮ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, বিদেশি ঋণ থেকে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

অর্থবছরের প্রথম তিন মাস পার হলেও এডিপির বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলো হলো সেতু বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৯৩৬ কোটি টাকা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১৮৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নামমাত্র অর্থ ব্যয় করেছে। এগুলো হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।

টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষেত্রে। এ বিভাগ ব্যয় করেছে ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের হার ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ব্যয় হয়েছে ২৯ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে মোট বরাদ্দের তুলনায় ব্যয়ের হার ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।

বাস্তবায়নের হারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে সংসদবিষয়ক সচিবালয়। প্রথম তিন মাসে সংস্থাটির এডিপি বাস্তবায়নের হার ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আইন ও বিচার বিভাগের ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে।

এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতও। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রথম তিন মাসে ব্যয় হয়েছে ১৯৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের বরাদ্দ ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগটি ব্যয় করেছে ১০২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগেই এডিপি বাস্তবায়নের হার ২ শতাংশের নিচে থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থবছরের শুরুতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি থাকলে পরবর্তী সময়ে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের চাপ বাড়তে পারে। এতে প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এএইচ/এআর