নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে স্পেনের বার্সেলোনায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল মেলা বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬। এতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আর্থিক সহযোগিতা ও মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় ১৪টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি মেলায় অংশ নিচ্ছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মেলার উদ্বোধন করেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান এনডিসি।
স্পেনের বার্সেলোনার বিখ্যাত প্রদর্শনী কেন্দ্র ফিরা দে বার্সেলোনা মোন্টজুইকে আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বাংলাদেশ, স্পেন, ইতালি, জাপান, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও চীনসহ বিশ্বের ১২টি দেশের ৩০০টির বেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন, স্পেনে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রুহুল কুদ্দুস, প্রথম সচিব (শ্রম) মাহিদ আল হাসান, বিকেএমইএর পরিচালক মো. আব্দুল হান্নান, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা, স্পেনের বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং মেলার আয়োজক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, জার্মানিকে ছাড়িয়ে স্পেন বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পণ্যের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুসংহত করতে কাজ করছে। মুডিসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ঋণমান মূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে।
বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও পণ্যের বহুমুখীকরণে স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মেলায় বিভিন্ন ধরনের বোনা ও নিট কাপড়, তৈরি পোশাক, গৃহসজ্জার বস্ত্র, সুতা এবং ফ্যাশনসামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি পোশাক মেলায় আসা ক্রেতাদের আগ্রহ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পাইকারি বিক্রেতা, ডিজাইনার, ইউরোপীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে এ মেলা। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা, রপ্তানি আদেশ পাওয়া এবং ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের মেলায় বিশ্বখ্যাত ট্রেন্ড পূর্বাভাস ও নকশাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান পেক্লার্স প্যারিসের পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ট্রেন্ড ইন্টেলিজেন্স শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ডে ফ্যাশন, এএমসি নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সারা ফ্যাশন, বেঙ্গল গ্লোরি, কনকর্ড গার্মেন্ট ওয়্যার, ইউনাইটেড ক্রিয়েশন, এএমসি অ্যাপারেল, গ্লিমার ফ্যাশনস ডিজাইন অ্যাপারেল, জিন্স অ্যান্ড জ্যাকেট, আহাভা কম্পোজিট, এনডব্লিউআরএমটি, মানহা অ্যাটায়ার কম্পোজিট এবং গেট ওয়ার্ল্ড অ্যাটায়ার ট্রিমস।
এ ছাড়া মেলায় ইপিবির একটি স্টলে বাংলাদেশের রপ্তানিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকাশনা, সাময়িকী ও নথিপত্র প্রদর্শন ও বিতরণ করা হচ্ছে।
এমআর/এআর