নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের শুরুতে রাজধানীর বাজারে দেখা মিলছে নানা ধরনের দেশি মৌসুমি ফলের। জলপাই, আমলকী, আমড়া, কদবেল, চালতা, পানিফল, জাম্বুরা, কামরাঙা ও পেয়ারাসহ বাহারি ফলের সমারোহে রঙিন হয়ে উঠেছে ফলের দোকান।
কোনো ফল টক, কোনোটি মিষ্টি, আবার কোনোটি ফিরিয়ে আনছে গ্রামবাংলার চিরচেনা স্বাদ। দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও মৌসুমি এসব ফলের প্রতি আগ্রহ কম নয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। পছন্দের ফল কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ পরিবারের জন্য কিনছেন, কেউ আবার দীর্ঘদিন পর পরিচিত গ্রামীণ ফল দেখে কিনছেন নিজের পছন্দে।
বাজারে জলপাই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, আমলকী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পাকা আমড়া ৮০ টাকা এবং কাঁচা আমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। পানিফল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, জাম্বুরা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া কদবেল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেয়ারা ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কামরাঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালতা বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৫ টাকা এবং আনারসের দাম পড়ছে প্রতিটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।
মৌসুমি ফলের টানে ক্রেতারা
দেশি মৌসুমি ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহের পেছনে রয়েছে স্বাদ, পুষ্টি ও শৈশবের স্মৃতি। শহরের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই গ্রামের পরিচিত ফলগুলো নিয়মিত পান না। ফলে বাজারে এসব ফলের দেখা মিললে পছন্দের ফল কিনতে আগ্রহী হন অনেকে।
যাত্রাবাড়ী এলাকায় ক্রেতা সাব্বির বলেন, এসব ফল সারা বছর পাওয়া যায় না। বিশেষ করে জলপাই, আমলকী, আমড়া ও কদবেল দেখলে কিনতে ইচ্ছা করে। দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবারের জন্য অল্প করে কিনি।
আরেক ক্রেতা বলেন, গ্রামে থাকতে এসব ফল সহজেই পাওয়া যেত। এখন শহরে সব সময় পাওয়া যায় না। বাজারে এলে কিনে খেতে ইচ্ছা করে। তবে সব ফলের দাম এক রকম নয়, তাই কেনার আগে কয়েকটি দোকানে দাম যাচাই করি।
দাম ও সরবরাহ নিয়ে বিক্রেতাদের কথা
বিক্রেতাদের মতে, মৌসুমি ফলের সরবরাহ, আকার, মান ও কেনার উৎসের ওপর দাম নির্ভর করে। কোনো ফলের সরবরাহ বেশি থাকলে দাম তুলনামূলক কম থাকে, আবার সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়। পচনশীল ফল হওয়ায় বিক্রির বিষয়টিও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শ্যামবাজারের ফল বিক্রেতা রবিউল আলম বলেন, মৌসুমি ফলের চাহিদা আছে। তবে সব ক্রেতা বেশি দামে কিনতে চান না। কেউ অল্প পরিমাণে কেনেন, আবার কেউ পরিবারের জন্য কয়েক ধরনের ফল নেন। ফলের মান ও সরবরাহের ওপর দাম নির্ভর করে।
আরেক বিক্রেতা কামরুল হাসান বলেন, কিছু ফল অল্প সময়ের জন্য বাজারে আসে। এ কারণে অনেকে মৌসুমে পছন্দের ফল কিনে নেন। তবে ফল দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই সময়মতো বিক্রি করতে হয়।

পুষ্টির পাশাপাশি ঐতিহ্যের স্বাদ
দেশি ফল শুধু স্বাদেই বৈচিত্র্য আনে না, পুষ্টির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখে। ফলভেদে এতে ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ পাওয়া যায়। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া উপকারী। শিশু থেকে প্রবীণ, সব বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকায় ফল রাখা যেতে পারে।
তবে ফলের দাম ও প্রাপ্যতা সব সময় এক রকম থাকে না। মৌসুমের সময় বাজারে দেশি ফলের বৈচিত্র্য বাড়লেও ক্রেতাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করতে হয়। এ কারণে কেউ একসঙ্গে কয়েক ধরনের ফল কিনছেন, আবার কেউ বেছে নিচ্ছেন পরিবারের পছন্দের ফলটি।
রাজধানীর বাজারে দেশি মৌসুমি ফলের এই সমারোহ তাই শুধু কেনাবেচার চিত্র নয়, গ্রামীণ স্বাদ ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও মানুষের সংযোগের প্রতিফলন। সীমিত সময়ের জন্য পাওয়া এসব ফলের টানে বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা, আর তাদের আগ্রহেই জমে উঠছে মৌসুমি ফলের বেচাকেনা।
এমআর/এআরএম