Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান মার্কিন ডলারের হিসাবে এ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৮৮৬ ডলার। অন্যদিকে ভারতের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ ২ হাজার ৭৫০ ডলার। সে হিসাবে ভারতের চেয়ে ১৩৬ ডলার এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। তবে এ ব্যবধান দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৮-২৯ অর্থবছরেই আবারও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভারত।

আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকতে পারে ভারত। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে ৩ হাজার ৬৬২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৪ ডলার। ফলে ওই অর্থবছরে ভারতের চেয়ে ৩২৮ ডলার পিছিয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও দুই দেশের ব্যবধান বাড়ার ইঙ্গিত রয়েছে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে ৪ হাজার ৩৮৯ ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ৩ হাজার ৬৮০ ডলার। এতে দুই দেশের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৭০৯ ডলার।

এর আগে ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে ২০২৫ সালে ভারত আবারও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায়। চলতি অর্থবছরের পূর্বাভাসে বাংলাদেশ ফের এগিয়ে থাকলেও পরবর্তী সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধির গতি তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আইএমএফের হিসাব।

তবে ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপির ভিত্তিতে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এ পদ্ধতিতে দুই দেশের পণ্য ও সেবার দামের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিপিপির ভিত্তিতে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার। এ হিসাবে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ এগিয়ে থাকবে ভারত।

সামগ্রিক অর্থনীতির আকারের দিক থেকেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান বড়। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের মোট জিডিপির আকার হতে পারে ৪ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট জিডিপি চলতি অর্থবছরে ৫০৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৬৭৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মাথাপিছু জিডিপির পূর্বাভাসেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১৯ হাজার ৫০৭ ডলার। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে তা ৫ হাজার ৬২ ডলার এবং ভুটানের ৪ হাজার ৯৩৩ ডলার। অন্যদিকে পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১ হাজার ৮৩৬ ডলার এবং নেপালের ১ হাজার ৫৪০ ডলার।

মাথাপিছু জিডিপি হিসাব করা হয় একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে। এ সূচক থেকে জনপ্রতি গড় অর্থনৈতিক উৎপাদনের ধারণা পাওয়া গেলেও তা সরাসরি মানুষের আয় বা জীবনযাত্রার মান নির্দেশ করে না। কারণ, এ হিসাবে আয়বৈষম্য, সম্পদের বণ্টন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের পূর্ণ চিত্র উঠে আসে না। তাই দুই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার তুলনায় মাথাপিছু জিডিপির পাশাপাশি ক্রয়ক্ষমতা, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ও আয়বৈষম্যের মতো সূচকও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এএইচ/এআর