Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

‘সমুদ্র খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

বাংলাদেশের শিপিং ও সামুদ্রিক খাতে বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সব খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নৌপরিবহন, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আয়োজনে ঢাকার কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (ICCB) অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সমুদ্র ও নৌপথের সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে তা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সমুদ্র, নদী ও নৌপথের প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। দেশের প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার প্রাকৃতিক নৌপথ এবং বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থান শিপিং, বন্দর ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে এসব সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের জন্য আরও কার্যকর পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রয়োগ প্রয়োজন।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়নে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য পরিবহনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশের শিপিং খাতের বহুমুখী সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার ও মেরামত, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, সামুদ্রিক পরিবহন, বন্দর পরিচালনা, লজিস্টিকস সেবা এবং অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান বাড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের দক্ষ নাবিকদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে ফিলিপাইনের মতো দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের নাবিকদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিমক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ এবং যৌথ উদ্যোগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। অপরিকল্পিত সম্পদ আহরণ ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম সামুদ্রিক প্রতিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

SAVOR

জ্বালানি রূপান্তর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিবেশ সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও মানবকল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে শিপিং ও সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়। এ লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’ এর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশের শিপিং ও সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উকিয়াও সোয়ে মোয়ে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামাত এলাহী, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডোর মো. শফিউল বারী।

এসএইচ/এফএ