নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের সঙ্গে সরাসরি সমুদ্র যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ। এ সংযোগ চালু হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একইসঙ্গে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছে দুই দেশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি। এসময় চট্টগ্রাম বন্দর ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্র যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্র যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হবে।
তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেই ভূমিকা রাখবে না, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানো এবং দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/এএইচ