Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

শীতের সবজির বাজারে অস্বস্তি, বাজারভেদে দামেও ফারাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। বাজারে শীতের সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম আকাশছোঁয়া। আবার এক বাজারের সঙ্গে অন্য বাজারের পণ্যের দামে দেখা যাচ্ছে পার্থক্য। কোথাও বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি, আবার কোথাও ১২০ টাকা।  শিমের দামেও রয়েছে ভিন্নতা। তবে বাজারভেদে কিছু সবজির দাম কম থাকলেও মাছ, তেল, চিনি ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে এবং রামপুরা, হাজিপাড়া ও সেগুনবাগিচার বিভিন্ন খুচরা বাজারের দামের তথ্য তুলনা করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

মালিবাগ বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। অথচ রাজধানীর অন্য কয়েকটি বাজারে একই সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অর্থাৎ বাজারভেদে বেগুনের দামে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে মালিবাগে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। রাজধানীর অন্য বাজারগুলোতে শিমের দাম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। সে হিসাবে মালিবাগে শিমের দাম তুলনামূলক কম।

একইভাবে করলার দামেও পার্থক্য রয়েছে। মালিবাগ বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। অন্যদিকে রাজধানীর কয়েকটি বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ একই দিনে বাজারভেদে করলার দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত ফারাক দেখা যাচ্ছে।

fish_2

এদিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ শুরু হলেও দাম এখনও চড়া। মালিবাগ বাজারে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। প্রতি কেজি আলু পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। রাজধানীর অন্য বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। সে হিসাবে মালিবাগে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে দামের সর্বোচ্চ সীমায়।

মালিবাগে প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। রাজধানীর অন্য বাজারগুলোতেও কোথাও ৬০ টাকা, আবার কোথাও ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সবজিটি। অর্থাৎ ঢেঁড়সের দামেও বাজারভেদে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে।

শুধু এসব সবজি নয়, রাজধানীর অন্যান্য বাজারেও বেশির ভাগ সবজির দাম রয়েছে বাড়তি। শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি গাজর ১৪০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, পটল ও কাঁকরোল ৬০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকা।

অন্যদিকে মালিবাগের মাছের বাজারেও চড়া দাম দেখা যাচ্ছে। মাঝারি আকারের চিংড়ি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়। বড় আকারের বোয়াল মাছ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০০ টাকা। প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়। কাতল মাছের দাম ৩২০ টাকা এবং কই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজিতে।

এদিকে সবজির পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারেও স্বস্তি নেই। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল ও প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ সংকটের অভিযোগ রয়েছে। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা হলেও কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। একইভাবে এক কেজি প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। আর ব্রয়লার মুরগির দাম রয়েছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি। ডিম ও মুরগির দাম মালিবাগ ও অন্যান্য বাজারে প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাড়তি দামের পেছনে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, বৃষ্টি ও সরবরাহ কম থাকার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। মালিবাগের সবজি বিক্রেতা আলাউদ্দিন ঢাকা মেইলকে বলেন, "তেলের দাম বেড়েছে, এজন্য পরিবহণ খরচ বেশি। আবার শীতের সবজিও মাত্র উঠতে শুরু করেছে। এজন্য দাম কিছুটা চড়া।

murgi

তিনি আরও জানান, শীতকালীন সবজির মৌসুম সামনে থাকলেও এখন আগের মৌসুমের সবজি শেষ হয়ে আসছে। ফলে বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক কম। নতুন মৌসুমের সবজি পুরোদমে বাজারে উঠলে দাম কমে আসতে পারে।

এদিকে বাজারের বাড়তি দামে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারাও। মালিবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, "বাজারের সব ধরনের সবজির দাম বেশি বেশি। ১০০ টাকা ৮০ টাকার ঘরে প্রায় সব ধরনের সবজি। এত টাকা দিয়ে সবজি কিনে খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য আসলেই কঠিন।"

সেলিনা ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, সব কিছুর দাম চড়া। বাসার সামনে যেসব দোকান আছে সেগুলোতে দাম আরও বেশি। এজন্য মালিবাগ বাজারে আসা। কাছের সবচেয়ে বড় বাজার এটাই। সুযোগ থাকলে কারওয়ানবাজার চলে যেতাম। সব সবজি তো ওখান থেকেই আসে, দামও হয়তো কিছুটা কম হবে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারগুলোতে একই পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বেগুন, শিম, করলা ও ঢেঁড়সের দামে বাজারভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত ফারাক রয়েছে। বাজারভেদে দামের এই পার্থক্যের মধ্যেও নিত্যপণ্যের সামগ্রিক উচ্চমূল্যে ক্রেতাদের অস্বস্তি কাটছে না।

এমএইচ/এআরএম