Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

নিত্যপণ্যের বাজারজুড়ে অস্বস্তি, গলাকাটা দাম পলাশীবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ পিএম

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারগুলোতে সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে আকাশছোঁয়া দাম অব্যাহত রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজি ও মাছ-মাংস—সবকিছুর দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। 

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত পলাশীবাজারে গিয়ে ক্রেতাদের চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে। অন্যান্য বাজারের তুলনায় পলাশীবাজারে প্রায় প্রতিটি পণ্যেই বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য গলাকাটা ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে পলাশীবাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল ১০০ টাকার নিচে। টমেটো ও শসার কেজি ১২০ টাকা ছুঁয়েছে। কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজি ১৮০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৭০ টাকা, কচুর মুখি ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, আলু ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের প্রতিটি লাউয়ের দাম ৭০ থেকে ১৫০ টাকা এবং ফুলকপি ৮০ টাকা।

বাজারে প্রতিকেজি মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩০০-৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-২৬০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০-২২০ টাকা, কাতলা ২৮০-৩০০ টাকা, পোয়া ৩২০-৩৫০ টাকা এবং টেংরা ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি বাইন মাছ ৫০০ টাকা, পুঁটি ২৩০-২৫০ টাকা, কার্পু ২২০-২৪০ টাকা, কই ২২০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৭০০ টাকা, বাইলা ৩০০-৩৬০ টাকা ও পাবদা ৩২০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতি কেজি গলদা চিংড়ির দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা।

প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি ৩৭০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর গোশতের কেজি ৮০০-৯০০ টাকা। খাসির গোশতের দাম ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পলাশীবাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী নুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা মেইলকে বলেন, পলাশীবাজারে কাছাকাছি হলেও এখানকার দাম সবসময়ই আকাশচুম্বী। এখানে কোনো কিছু কম পাওয়া যায় না, সবকিছু দাম বেশি। যে টাকা নিয়ে বাজারে আসি, ব্যাগ অর্ধেক ভরার আগেই টাকা শেষ হয়ে যায়। আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষদের বেঁচে থাকাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

সকাল সকাল বাজার করতে এসেছেন ব্যাংকার সাইফুল ইসলাম। বাজার করার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, বাজারে গিয়ে মন খারাপ হয়ে গিয়েছে। সবকিছুর দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে যেটার দাম ছিল ২০ টাকা, এখন সেটার দাম ২৫ টাকা। মাস শেষ হতে না হতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। এভাবে আমরা কীভাবে চলবো? কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং এবং নিত্যপণ্যের দাম হাতের নাগালে আনতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

পলাশীবাজারের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ীর দাবি, আড়ত ও পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম বেশি। স্থানীয় বিক্রেতা সবুজ হোসেন ঢাকা মেইলকে জানান, কারওয়ান বাজার বা শ্যামবাজার থেকেই আমাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। পরিবহণ খরচ ও আড়তের চড়া দামের কারণে আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারছি না।

আরেক ব্যবসায়ী নুরুল হাসান সোয়াইব বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। যার কারণে সবকিছু দাম বাড়াতে হচ্ছে। ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

এসএইচ/এআরএম