নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি হারানোর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশের অডিটরিয়ামে এনসিটি পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি সই শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি হয়েছে। এটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি। নির্দিষ্ট একটি লাইসেন্সের ভিত্তিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। এটি পুরো চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার চুক্তি নয়। চট্টগ্রাম বন্দরের মালিকানা, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। বন্দরের অধীনে এনসিটির পাশাপাশি সিসিটি, জিসিপিসহ আরও কনটেইনার টার্মিনাল রয়েছে। এসব টার্মিনালসহ পুরো বন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পালন করবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া এবং পুরো বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া এক বিষয় নয়। বাংলাদেশে এর আগেও বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক অপারেটররা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করেছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালও একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানগুলো কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের পরিচালনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি কোনোভাবেই ইজারা দেওয়া নয়।
বন্দরকর্মীদের চাকরির বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি চলে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বন্দরের যেসব কর্মচারী বর্তমানে কর্মরত আছেন, তাদের তালিকা এবং মোট বেতন-ভাতার তথ্য ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া হয়েছে। তাদের চাকরি আগের মতোই বহাল থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করে এনসিটিকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত করবে এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, এনসিটি আরও দক্ষতার সঙ্গে কনটেইনার পরিচালনা করতে পারলে বন্দরে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বাড়বে। তখন অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হতে পারে এবং নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। ফলে এই চুক্তির কারণে কোনো শ্রমিকের চাকরি যাওয়ার বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
এর আগে ইনভেস্ট বাংলাদেশের অডিটরিয়ামে দুই পক্ষের মধ্যে পরিচালনা স্বত্ব চুক্তি সই হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এসা কাজিম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/এফএ