জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ক্ষুদ্র, কুটির ও অতিক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পুরো অর্থ নভেম্বরের মধ্যে বিতরণের লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ঋণ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণ শুরু হওয়ার প্রথম দুই সপ্তাহে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে ৩৬টি ব্যাংক ও পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বৈঠকে ঋণ বিতরণের অগ্রগতি ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।
মাসরুর আরেফিন বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার এ স্কিমটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের পণ্য কেনাকাটাসহ ব্যবসার চলতি মূলধনের সংকটে থাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এ স্কিমের আওতায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বরের দিকে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পর ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দুই সপ্তাহে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ দ্রুত বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার পুরো অর্থ বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে।
বৈঠকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান মাসরুর আরেফিন। দেশের বিভিন্ন বিভাগের কয়েকটি নির্বাচিত জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু থাকলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এ কারণে উপজেলা, ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ে ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের বিষয়ে আরও ব্যাপক প্রচারণা চালানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটির সুযোগ সম্পর্কে তরুণ উদ্যোক্তাদের জানানো এবং অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাসরুর আরেফিন জানান, ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২১ বছর বা তার কম বয়সী তরুণ উদ্যোক্তাদের এ প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
বন্ধ ও অর্ধবন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজে ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাসরুর আরেফিন বলেন, তিনি এ অভিযোগের সঙ্গে একমত নন।
তিনি বলেন, বন্ধ, অর্ধবন্ধ কিংবা সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করছে—এমন শিল্পকারখানায় নতুন করে অর্থায়নে ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক আগ্রহী। তবে অর্থায়নের পর যাতে নতুন করে খেলাপি ঋণ তৈরি না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
শুধু লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য অর্থ বিতরণ করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থায়ন হতে হবে অর্থবহ ও টেকসই প্রকল্পে। বর্তমানে উপযুক্ত প্রকল্প খুঁজে পাওয়া কিছুটা কঠিন হলেও ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে চেষ্টা করছে।
মাসরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলেই এ অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে। তাই অর্থ যেন প্রকৃত উদ্যোক্তা এবং যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের কাছেই পৌঁছায়— সেটিই মূল লক্ষ্য।
টিএই/এএম