নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ এএম
ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণার আড়ালে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা একটি চালানে কাটা অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার, বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অংশ এবং পাঁচটি ইসুজু ট্রাকের অর্ধেক অংশের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকায় চালানটিতে শুল্ক-কর ফাঁকি এবং বিভিন্ন চালানে গাড়ির খণ্ডিত অংশ এনে পরে জোড়া লাগানোর কোনো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (০৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে একটি সন্দেহভাজন পণ্যচালানের কায়িক পরীক্ষা করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। চালানটিতে ব্যবহৃত ডিফারেনশিয়াল সংযোজন, ব্যবহৃত পাওয়ার স্টিয়ারিং সংযোজনসহ বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার বাইরে উল্লেখযোগ্য কিছু গাড়ি ও গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া যায়।
পরীক্ষায় প্রথমে খোলা বা খণ্ডিত অবস্থায় একটি দুই আসনের বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটির মডেল এস ড্রাইভ ২৩আই, ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি এবং এটি ২০০৯ সালের মডেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গাড়িটির সঠিক মডেল, উৎপাদন সাল, চ্যাসিস নম্বর এবং আমদানি বৈধতা প্রয়োজনীয় নথি ও কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
চালানটিতে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অংশও পাওয়া যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০১৬ সালের মডেল এবং ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি। গাড়িটির শুধু সামনের অংশ পাওয়ায় এর বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে বা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চালানটিতে পাঁচটি অর্ধকাটা ইসুজু ট্রাক পাওয়া যায়। প্রতিটি ট্রাকের চালকের কক্ষের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। এর পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, ঘোষিত পণ্য এবং বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ধরন ও অবস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ফলে পণ্যের ভুল ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং খণ্ডিত গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে এনে পরে জোড়া লাগানোর কোনো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়িটির বাকি অংশ কোথায় রয়েছে, তা শনাক্তে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য চালানের তথ্যও যাচাই করা হবে।
পণ্যগুলোর বিস্তারিত তালিকা, চ্যাসিস নম্বর, ইঞ্জিনের তথ্য, প্রকৃত মূল্য, প্রযোজ্য আমদানি নীতি এবং শুল্ক-কর যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
চালানটির আমদানিকারক মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ২৭৪৭/বি, পি.সি. রোড, গ্রিন ভিউ, সারাইপাড়া, হালিশহর, চট্টগ্রাম। পণ্য খালাসকারী প্রতিষ্ঠান আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড। রপ্তানিকারক সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি।
চট্টগ্রাম বন্দরে ঘোষণার আড়ালে গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির এ ধরনের প্রচেষ্টা শনাক্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এমআর/এএস