নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের হিসাব মিলছে না চট্টগ্রামের জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে। অনলাইন ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের বন্ডেড গুদামে প্রায় ১৯ লাখ ২১ হাজার কেজি কাঁচামাল থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ কেজি।
অর্থাৎ হিসাবে থাকা কাঁচামালের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার কেজির কোনো হদিস মেলেনি। এসব কাঁচামালের বিপরীতে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডের কারখানা ও বন্ডেড ওয়্যারহাউসে পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম চালায় সিআইআইডি।
প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধার আওতায় এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড, রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে থাকে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ইউপিতে থাকা কাঁচামালের তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে বাস্তবে মজুত কাঁচামালের পরিমাণ যাচাই করা হয়। এতে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
সিআইআইডির তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন ইউপি অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডেড ওয়্যারহাউসে মোট ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা ছিল। তবে সরেজমিনে পাওয়া গেছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।
হিসাব অনুযায়ী, ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি বা প্রায় ১৩ দশমিক ৩৫ লাখ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ আমদানিকৃত বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, গুদামে না পাওয়া এসব কাঁচামালের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও করের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের এ ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে সিআইআইডি। কাঁচামালগুলো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এ জন্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিস্তারিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যাচাই শেষে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এমআর/এসআই