নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ঢাকার মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ি এলাকার ৬২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের সম্পত্তিতে প্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আবদুর রহিম ভূঞা।
তিনি বলেন, আলোচ্য সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বৈধ মালিকানায় রয়েছে। এ বিষয়ে কোম্পানির কাছে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ও রেকর্ড রয়েছে। সম্পত্তির একটি অংশে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখান থেকে কোম্পানি ভাড়াও পেয়ে আসছে।
কোম্পানির অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল নামে এক ব্যক্তি ওই সম্পত্তির ওপর নতুন করে দাবি উত্থাপন করেন। তিনি নিজেকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। হাইকোর্টের গত ২৯ জুলাইয়ের আদেশ অনুযায়ী রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তির ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে বলে দাবি কোম্পানিটির।
তার অভিযোগ, আদালতের ওই আদেশের পরও গত ২০ সেপ্টেম্বর তাদের নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে কোম্পানি।
এর কয়েকদিন পর ২৪ সেপ্টেম্বর আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কোম্পানির সম্পত্তিতে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে বলে অভিযোগ করেন আবদুর রহিম ভূঞা।
তিনি বলেন, এ ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় আরও একটি জিডি করা হয়। তবে অভিযোগের পরও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন কিংবা জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি কোম্পানিটির।
সংবাদ সম্মেলনে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশ কার্যকর, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার তদন্ত ও বিচার, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্ত এবং শাহ আলী থানা পুলিশের ভূমিকার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া কোম্পানির বৈধ সম্পত্তি ও গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সম্পত্তিটি অবৈধ দখলমুক্ত করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আবদুর রহিম ভূঞা বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে বিচার বা রায় চাইছি না। আমরা চাই, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হোক। দলিলপত্র ও আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা যাচাই করা হোক।’
এমআর/এএইচ