Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

এলপিজি সংকট: আমদানিকারকদের সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সংকট এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 

বৈঠকে বাজারে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি ও দাম নিয়ে আলোচনা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রীর নিজ দফতরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে বা সংকট মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে। তবে বাজারের অনেক জায়গায় ভোক্তাদের প্রায় আড়াই হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে জ্বালানি বিভাগ। ওই বৈঠকে আমদানিকারকরা দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হয়েছে বলে সরকারকে আশ্বস্ত করেন। তবে এরপরও বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ সংকট ও বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এলপিজি আমদানির পরিমাণ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একটি হিসাবে, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমে আসে। আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক নৌপথে বিঘ্ন, জাহাজ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এলপিজি অপারেটরদের একটি অংশ গত ১ অক্টোবর জ্বালানি বিভাগে দেওয়া চিঠিতে দাবি করেছে, সেপ্টেম্বরে এলপিজি আমদানির পরিমাণ আগস্টের কাছাকাছিই ছিল। 

তাদের অভিযোগ, কিছু আমদানিকারক আমদানি করা এলপিজির কার্গো বাজারে ছাড়তে বিলম্ব করায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

এদিকে এলপিজি নিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন জ্বালানি মন্ত্রী। কোথাও প্রকৃত সংকট থাকলে সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম সংকট কিংবা নির্ধারিত দামের বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার আমদানিকারকদের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক হলো। ফলে বৈঠক থেকে সরবরাহ বাড়ানো, বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা কিংবা আমদানির বিষয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

এমআর/এএইচ