নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলেও বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়াতে চায় না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানি, মূল্য পরিশোধ ও মজুদ নিয়ে কোনো সংকট নেই বলেও জানান বিপিসি চেয়্যারম্যান।
বেসরকারি যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. রফিকুল ইসলাম।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারকে বাধ্য হয়েই জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করার মতো অবস্থা ছিল না। আশা করছি, সরকারের কাছ থেকে কিছু সহায়তা পাব। পাশাপাশি দাম বৃদ্ধির ফলে যে অর্থ আসবে, তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে অসুবিধা হবে না।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু হয়। এ পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, ডলারের বিনিময় হার, বিপিসির মার্জিন, ভ্যাট ও বিতরণ ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ইরান যুদ্ধের কারণে দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের সময় গত ১৮ এপ্রিল চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। তখন ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়।
জুনে ডিজেল ছাড়া তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম আবারো বাড়ানো হয়। ডিজেল ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রেখে কেরোসিন ১৩০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা করা হয়। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেও সেই দাম বহাল ছিল।
সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় সরকার। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে শুরু থেকেই জ্বালানি তেল নিয়ে চাপে রয়েছে সরকার। এরই মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে দেশে আসা আমদানি করা তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করাই ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে সরকার।
তেলের সরবরাহ ও মজুদের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, মজুদ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। স্বাভাবিকভাবে যতটুকু মজুদ থাকার প্রয়োজন, ততটুকুই রয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছে। আর্থিক বিষয়েও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্বস্তিদায়ক অবস্থানে পৌঁছানো গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করব, যেন কোনোভাবেই সামনে আর দাম বাড়াতে না হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনিশ্চিত, সেটি আলাদা বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বা এর চেয়েও কিছুটা বাড়লেও হয়তো আমাদের আর দাম বাড়াতে হবে না। যুদ্ধ পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে গেলেও আমার বিশ্বাস, হয়তো দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। বরং আমরা যে পরিমাণ তেল কিনব, তা যদি কম দামে সংগ্রহ করতে পারি, তাহলে সরকার দাম কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারি। পাশাপাশি ৯০ দিনের মজুদ সক্ষমতা তৈরির জন্য স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এমআর