Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

ব্রোকারেজ হাউজের অর্থ আত্মসাৎ: টাকা ফেরত পাচ্ছেন ১৭৩৩২ বিনিয়োগকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএসই আয়োজিত ‘আইপিএফ তহবিল বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে’ তিনি এ কথা জানান।

ব্রোকারেজ হাউজের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে লাভ-ক্ষতি দুটোই হতে পারে। স্বাভাবিক নিয়মে শেয়ারের দাম কমা-বাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়। তবে বাজারের কোনো মধ্যস্থতাকারীর অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুঁজিবাজারের ওপর তাদের আস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি বলেন, বিগত দিনে দেখা গেছে, বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউজ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজ বিনিয়োগকারীদের অর্থ বা শেয়ার বিভিন্নভাবে নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই টাকা বা শেয়ার বিনিয়োগকারীদের ফেরত দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে তাদের হিসাবে মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এর মধ্যে এ পর্যায়ে ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীর সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে।

যেসব বিনিয়োগকারীর পুরো অর্থ এ পর্যায়ে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না, তাদের টাকাও দ্রুত আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মমিনুল ইসলাম বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বাকি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে ডিএসই ও বাজারসংশ্লিষ্ট অন্যরা তৎপর থাকবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আপনাদের কষ্টার্জিত টাকা আপনারা অনেক আশা নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। আপনাদের যে ভীষণ মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার জন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না আশা প্রকাশ করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বিএসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং ব্রোকারেজ হাউজসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ১৭ হাজার ৯৬৭ বিনিয়োগকারীর তথ্য, তাদের বিনিয়োগের হিসাব এবং চূড়ান্ত ব্যালেন্স নির্ধারণ করা একটি কঠিন কাজ ছিল। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজটিও তারা সুচারুভাবে করতে পারবে বলে আশা করেন তিনি।

ব্রোকারেজ কমিউনিটির অবদানের কথাও তুলে ধরেন ডিএসই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের অর্থের প্রধান উৎস ব্রোকারদের ট্রেড কমিশন এবং কাস্টমার কনসোলিডেটেড অ্যাকাউন্টের (সিসিএ) সুদের ২৫ শতাংশ। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর এই অবদান ছাড়া ডিএসইর উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে যে ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে, সেটি সামনের দিনে আরও জোরদার হবে। সবার আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা, দেশে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পিলার হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। সেই গন্তব্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সবাই সফল হবে।

এমআর/এএইচ