জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
ডলার বা অন্য কোনো বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার ছাড়াই টাকায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের অর্থ নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিদেশি ব্যাংকের নামে পরিচালিত নন-রেসিডেন্ট টাকা বা ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে এখন আমদানি-রফতানি লেনদেনের অর্থ টাকায় পরিশোধ করা যাবে। বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর ফলে আমদানিকারকের কাছ থেকে পাওয়া টাকা সংশ্লিষ্ট ভোস্ট্রো হিসাবে জমা হবে এবং পরে ওই হিসাব থেকে বাংলাদেশের রফতানিকারকের অনুকূলে অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
নতুন ব্যবস্থায় এলসি, চুক্তি ও ইনভয়েস আগের মতোই অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পাদন করতে হবে। তবে প্রচলিত বিনিময় হার অনুযায়ী ওই অর্থ টাকায় রূপান্তর করে আমদানি-রফতানি লেনদেন নিষ্পত্তি করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, টাকায় রফতানি আয় গ্রহণকারী রফতানিকারকরা বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করতে পারবেন। সংরক্ষিত এসব অর্থ কাঁচামাল আমদানি, রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) ঋণ পরিশোধসহ অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে।
ভোস্ট্রো হিসাবে জমা থাকা অতিরিক্ত অর্থও বিভিন্ন অনুমোদিত খাতে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল এবং ওপেন-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
এদিকে একই দিনে পৃথক নির্দেশনায় এক্সচেঞ্জ হাউস ও আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরদের (আইএমটিও) মাধ্যমে আসা বৈদেশিক মুদ্রার রেমিট্যান্স প্রাইভেট ফরেন কারেন্সি (পিএফসি) ও নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (এনএফসিডি) হিসাবে জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে এসব লেনদেনে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই (কেওয়াইসি), অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিমালা ও রিপোর্টিংয়ের শর্ত যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
টিএই/এএইচ