Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ, প্রমাণ মিলেছে এস আলমের ‘জাদুর বাক্সের’

মুহা. তারিক আবেদীন ইমন

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ এএম

  • পরীক্ষা ও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৮ হাজার ৫৪২ নিয়োগ
  • ১০ হাজার ৮৩২ জন নিয়োগ এস আলমের সময়ে
  • নিয়োগের ৮ হাজার ৯৯ জনই চট্টগ্রামের
  • পটিয়ার ৫ হাজার ১৪৮ জন নিয়োগ
  • সিভি জমার বাক্স ছিল এস আলমের বাড়ি ও অফিসে
  • ২৭ পদে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ
  • ডিএমডি পদেও অভিজ্ঞতার নিয়ম লঙ্ঘন

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটিতে ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই শুধু জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৫৪২ জনকে। এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় অংশের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের পটিয়ার বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জের কার্যালয়ে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার জন্য বাক্স রাখা হতো। ওই বাক্সে বিভিন্ন পদ ও এলাকার নাম উল্লেখ করে সিভি জমা নেওয়া হতো। পরে সেখান থেকেই বাছাই, মৌখিক পরীক্ষা এবং নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল।

২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ এবং ২০২৪ সালের আগস্টের পর নিয়োগপ্রাপ্তদের ছাঁটাই প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, তা যাচাই করতে চলতি বছরের এপ্রিলে সাত সদস্যের একটি বিশেষ পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি তাদের প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে জমা দিয়েছে।

মূল্যায়ন পরীক্ষা ও পরবর্তী ছাঁটাই নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের কর্মীদের মধ্যে বিরোধ এবং ব্যাংকটির সচেতন গ্রাহক ফোরামের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে এই পরিদর্শন করা হয়। প্রতিবেদনে কোনো সুপারিশ না করে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ এবং পরবর্তী ছাঁটাই-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মী ছিলেন ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৩২ জনকে। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৫৪২ জনকে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই শুধু জীবনবৃত্তান্তের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা ছিলেন ৮ হাজার ৯৯ জন। শুধু পটিয়া উপজেলারই ছিলেন ৫ হাজার ১৪৮ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯৮ জন নিয়োগ পান কক্সবাজার জেলা থেকে। কুমিল্লার ১১৪, ময়মনসিংহের ৯৯, বগুড়ার ৯৭ এবং ঢাকার ৯৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাজশাহী থেকে ৮৩, যশোর থেকে ৭৮, গাইবান্ধা থেকে ৭৫ এবং রংপুর থেকে ৬৬ জন নিয়োগ পান। অন্যান্য ৫৪ জেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় ১ হাজার ৬২৭ জনকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুল আলমের পটিয়ার বাড়ি ও আসাদগঞ্জের অফিসে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার জন্য রাখা বাক্সগুলোতে পটিয়া জেনারেল, পটিয়া ক্যাশ, পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, পুরুষ ক্যাশ-গণ্ডামারা-বাঁশখালী, সনাতন জেনারেল, মহিলা ক্যাশ, পিয়ন-ডিপ্লোমা, পুরুষ জেনারেল ও পুরুষ ক্যাশসহ বিভিন্ন পদ ও এলাকার নাম লেখা থাকত।

অর্থাৎ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রচলিত বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থান থেকে সিভি সংগ্রহ করে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে।

ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব মানবসম্পদ নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা। পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়াকে যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করার বিধানও রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে দেখা গেছে, পরীক্ষা ও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ব্যাংকটির মোট ২৭টি পদে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদে ২ হাজার ৭৮৯ জন এবং ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদে ২ হাজার ১৬০ জন নিয়োগ পান। এ ছাড়া মেসেঞ্জার কাম গার্ড পদে ১ হাজার ৫৪৪ জন এবং রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিমের (আরডিএস) স্টাফ হিসেবে ৯১৫ জন নিয়োগ দেওয়া হয়। ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ৫০১ জনকে।

শুধু নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের পদেই নয়, উচ্চপর্যায়ের নিয়োগেও একই ধরনের অনিয়মের তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময়ে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দুজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), আটজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), দুজন এসইভিপি এবং ব্যাংকের ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের জন্য একজন প্রিন্সিপাল নিয়োগ দেওয়া হয়। পাঁচজন ইভিপির মধ্যে চারজনকেও বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী ডিএমডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। কিন্তু এই বিধান লঙ্ঘন করে এস আলমের পিএস আকিজ উদ্দিনকে মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং মিফতাহ উদ্দীনকে ১৭ বছরের অভিজ্ঞতায় ডিএমডি নিয়োগ দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বছরভিত্তিক নিয়োগেও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। ২০১৭ সালে ৩৬৭ জন, ২০১৮ সালে ১ হাজার ১১৮ জন এবং ২০১৯ সালে ২ হাজার ৪৬৭ জন নিয়োগ পান। ২০২০ সালে নিয়োগ দেওয়া হয় ২ হাজার ১১০ জনকে। ২০২১ সালে ৮৬৫ জন, ২০২২ সালে ২ হাজার ১১৯ জন, ২০২৩ সালে ৩৯৭ জন এবং ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩৯২ জন নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে ২০২২ সালে, যখন ব্যাংক খাত চরম তারল্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখনও ইসলামী ব্যাংকে ২ হাজার ১১৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

Islami3

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল দৈবচয়নের ভিত্তিতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেয়। তারা জানান, এস আলমের পটিয়ার বাড়ি ও আসাদগঞ্জ অফিসে রাখা বাক্সে তারা জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন। পরে সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া এবং যোগদানপত্র দেওয়ার কথা জানান তারা। ওই ১০ জনের মধ্যে দুজনের কোনো মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি।

ইসলামী ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রেও একাধিক অনিয়মের তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো পূর্বঅভিজ্ঞতা ছাড়াই ব্যাংকে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ। এস আলমের নিয়ন্ত্রণের সময়ে এ পদে চারটি ব্যাচে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২৪তম ব্যাচে ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই। এদের মধ্যে ১২ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পান। পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া চট্টগ্রাম থেকে সম্পন্ন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৪০ জনের সিভি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৭৬৩ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। মাত্র ৩৬ জন লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পান। পরে শর্ত শিথিল করে ২০ শতাংশ নম্বর পাওয়া প্রার্থীদেরও মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। সব মিলিয়ে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। তাদের মধ্য থেকে ৩০৪ জন উত্তীর্ণ হন।

শেষ পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে এবং বাকি ১২৬ জনকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পাঠানো হয়। তাদের সবাই চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জন কাজে যোগ দেন। বর্তমানে তাদের ৩১ জন চাকরিতে রয়েছেন। ২১ জন পদত্যাগ করেছেন, ১৩১ জন চাকরি হারিয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন।

অন্যদিকে প্রবেশনারি অফিসারের ২৫তম ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে নেওয়া হয়। সেখানে ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ৯০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৯৮ জনের বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে। এ ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া ১৫০ জনের মধ্যে ৮৮ জনই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এ নিয়োগের সময় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।

তবে ২০১৭ সালে ১৪৪ জন এবং ২০২৪ সালে ২০০ জন প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে নিয়োগ পাওয়া ২০০ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন ৩৬ জন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শন এবং চারটি বহির্নিরীক্ষকের বিশেষ নিরীক্ষায় ইসলামী ব্যাংকের ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগে অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। এরপর ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংকটির পর্ষদ।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট করেন। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন আদালত। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নিতে কোনো বাধা নেই।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়। প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৩৭৩ জনকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়। তাদের মধ্যে ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন এবং তারা সবাই চাকরিতে বহাল রয়েছেন। বাকি ৪ হাজার ৯৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। বিভিন্ন কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা আরও ২৮৭ জনকে পরে পরীক্ষার আওতায় নেওয়া হয়।

মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার পর ব্যাংকের পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৪৪০ জনের বাড়ি চট্টগ্রামে। এ ছাড়া কক্সবাজারের ১৫৫ জন, ঢাকার ১০ জন এবং অন্যান্য ৬১ জেলার ৮০ জন রয়েছেন।

এর বাইরে পাঁচজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। বিভিন্ন অভিযোগে ১২১ জন, চুক্তির মেয়াদ শেষে নবায়ন না করায় ১ হাজার ১৯০ জন এবং অন্যান্য কারণে ১৩৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন জানিয়েছেন, সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের জন্য মূল্যায়ন পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছিল। যারা পরীক্ষায় অংশ নেননি, তাদের শুরুতে বিশেষ দায়িত্বে রাখা হয়। পরে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাই ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্মীদের নিয়োগ দিয়েছিল এবং তারাই ছাঁটাই করেছে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ করা সমীচীন নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদন মূলত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণকালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগপ্রক্রিয়ার চিত্র তুলে ধরেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব মানবসম্পদ নীতিমালায় থাকা বিজ্ঞপ্তি, লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পটিয়াকেন্দ্রিক নিয়োগের যে চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

টিএই/এএস