নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
পুঁজিবাজারে নতুন ও মানসম্মত কোম্পানির তালিকাভুক্তির সংকট কাটাতে ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি ব্লু-চিপ কোম্পানিকে ডিরেক্ট লিস্টিং বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজারে আনার লক্ষ্য নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
সরকারি, বহুজাতিক ও দেশিয় বড় কোম্পানিকে এ প্রক্রিয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএসই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে ভালো কোনো আইপিও বা নতুন লিস্টিং হয়নি। এ অবস্থায় বাজারে নতুন ও মানসম্মত সিকিউরিটিজ আনতে ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইপিও বিধিমালা সহজ করার কাজও চলছে।’
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি ব্লু-চিপ কোম্পানিকে ডিরেক্ট লিস্টিং বা আইপিওর মাধ্যমে বাজারে নিয়ে আসতে পারব। এগুলো সরকারি, বহুজাতিক কিংবা দেশীয় ব্লু-চিপ কোম্পানি হতে পারে।’
তিনি জানান, ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের নতুন নিয়মের মাধ্যমে বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে আসার পথ সহজ করা হবে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের খসড়া বিধিমালা জনমতের জন্য প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন না থাকলেও বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে আইপিও প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ইস্যুয়াররা যাতে পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হয়, সে জন্য আইপিও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সংশোধিত আইপিও বিধিমালা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মমিনুল ইসলাম বলেন, আইপিও ও ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রয়োগের জন্য ডিএসইর সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে লিস্টিং ফিতে ছাড় দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান ডিএসই চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, বন্ড লিস্টিংয়ের ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ডিরেক্ট লিস্টিং বা আইপিওর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে আবেদন করলে তাদের লিস্টিং ফি ৫০ শতাংশ মওকুফ করা হবে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন মানসম্মত সিকিউরিটিজ না আসায় যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।
সমন্বিত উদ্যোগে ১০ কোম্পানি আনার লক্ষ্য ডিএসইর নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানান মমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘সরকার, রেগুলেটর, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং আমাদের মার্চেন্ট ব্যাংক যারা আছেন, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্যটা আমরা পূরণ করতে সক্ষম হব।’
বিএসইসিও বড় ও ভালো কোম্পানিকে দ্রুত পুঁজিবাজারে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির পাশাপাশি সভরেন বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান ডিএসই চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, সরকার এরই মধ্যে সভরেন বন্ড ইস্যুর পদক্ষেপ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে আনা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে করপোরেট বন্ড ইস্যুর পথও সহজ হবে।
এমআর/এআরএম