Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

ডিসেম্বরের মধ্যে ডিএসইতে টি+১ ও স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

শেয়ারবাজারের লেনদেন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে ডিসেম্বরের মধ্যে টি+১ সেটেলমেন্ট ও স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুরও লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসই।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসইর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনার কথা জানান ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মুমিনুল ইসলাম। এ সময় ডিএসইর বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলের (আইপিএফ) চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নুজহাত আনোয়ার বলেন, টি+১ সেটেলমেন্ট ও স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দুটি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। তবে এ ধরনের পণ্য বাজারে চালুর আগে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিএসইর এমডি জানান, বাজারের শিল্পভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ও শ্রেণি-সংক্রান্ত কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পর্ষদের অনুমোদনের পর বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এরপর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন কোনো নিয়ম বা পণ্য চালুর ক্ষেত্রে বাজারে যাতে কোনো ধরনের ছন্দপতন তৈরি না হয় এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন নিয়ম ও পণ্য চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, তালিকাভুক্ত ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনের জন্য পৃথক প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করছে ডিএসই। নুজহাত আনোয়ার বলেন, বিদ্যমান বিধিবিধানের আওতায় মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা মিউচুয়াল ফান্ডে লেনদেনের সুযোগ পাবেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি চালুর আশা করা হচ্ছে।

বন্ড মার্কেট নিয়েও ডিএসই কাজ করছে বলে জানান তিনি। নুজহাত আনোয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ড লেনদেনের মূল্যসংক্রান্ত কাঠামোর ব্যয় প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে ইস্যু হতে যাওয়া বন্ডগুলোকে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কয়েকটি বন্ড মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যাতে বন্ডে বিনিয়োগের পাশাপাশি দ্বিতীয় বাজারেও লেনদেন করতে পারেন, সে বিষয়েও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

ডিএসইর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন নাসডাক ট্রেড ম্যাচিং ইঞ্জিন স্থাপনের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে নতুন এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন তথ্য পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা বা ডিজাস্টার রিকভারি সিস্টেম ডিসেম্বরের মধ্যে হালনাগাদ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিএসইর এমডি বলেন, বাজারের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে আরও জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করতে আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পও দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এম/এআর