নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (আইপিআর) ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে শুধু উৎপাদন ও পণ্যের পরিমাণের ওপর নির্ভর না করে উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মূল্য সংযোজনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য আইপিআরের কার্যকর সুরক্ষা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ‘Industrial Shift in the Post-LDC Era: Strategies for IPR Issues of Key Industries’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইআরডির ‘Support to Sustainable Graduation Project (SSGP)’ ও ডিসিসিআই যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।
তাসকীন আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে দৃশ্যমান সম্পদের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী আইপিআর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ফার্মাসিউটিক্যালস, তৈরি পোশাকসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে ভবিষ্যতে আরও বেশি উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মূল্য সংযোজনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এর জন্য আইপিআরের কার্যকর সুরক্ষা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আইপিআর ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দীর্ঘসূত্রতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, পাইরেসি ও নকল পণ্য প্রতিরোধে সীমিত সক্ষমতা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইপিআর বিষয়ে সচেতনতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে আধুনিক ও কার্যকর ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অফিস অব বাংলাদেশ (আইপিওবি)’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
এ ছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক আইপি ট্রাইব্যুনাল বা আইপি বেঞ্চ গঠন এবং কাস্টমস ও পুলিশের জন্য বিশেষায়িত আইপিআর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্টস, ডিজাইনস অ্যান্ড ট্রেডমার্কসের (ডিপিডিটি) নিবন্ধন ও পরীক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল করে ব্যাকলগ কমানোর পরামর্শ দেন তাসকীন আহমেদ। পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োটেকনোলজির মতো বিশেষায়িত খাতের জন্য দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক নিয়োগের কথাও বলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস (টিটিও) গঠন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন ডিসিসিআই সভাপতি।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে আইপিআর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনায় নিয়ে অর্থায়নের ক্ষেত্রেও এটিকে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধে কপিরাইট আইন ও সংশ্লিষ্ট সাইবার বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর ‘নোটিশ অ্যান্ড টেকডাউন’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক এবং সাবেক ডব্লিউআইপিও একাডেমির কনসালট্যান্ট আতাউল করিম।
আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতা, সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা অংশ নেন।
এমআর/এফএ