নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ এএম
রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের লাল ডিমের দাম ডজনে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। তবে একই সময়ে কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। গত সপ্তাহে যে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, শুক্রবার তা বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা দরে। ফলে ডিমের বাজারে বাড়তি চাপ থাকলেও ব্রয়লার মুরগিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ফার্মের লাল ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়ে বর্তমানে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে ডজনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
তবে ব্রয়লার মুরগির বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার যাত্রাবাড়ীর বাজারে তা ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে দাম।

এছাড়া বাজারে লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। খামার ও পাইকারি পর্যায় থেকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ীর ডিম বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে দামে ডিম কিনেছি, এবার তার চেয়ে কিছুটা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাইকারি দাম বাড়লে আমাদেরও খুচরা দাম সমন্বয় করতে হয়। তবে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম আবার কমেও যেতে পারে।’
আরেক বিক্রেতা বলেন, ডিমের দাম প্রতিদিনই খুব বেশি না হলেও কিছুটা ওঠানামা করছে। কয়েক দিন ধরে পাইকারি দামে বাড়তি চাপ রয়েছে। সেই কারণে ডজনপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমার বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে ক্রেতাদের চাহিদার ওপরও দামের ওঠানামা নির্ভর করছে।

মুরগী ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এখন ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কিছুটা ভালো। তাই দামও কমেছে। বর্তমানে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। তবে সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে যেকোনো সময় দাম কিছুটা বাড়তে বা কমতে পারে।’
অপর এক বিক্রেতা বলেন, ব্রয়লারের দাম কমলেও লেয়ার ও সোনালীর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। ক্রেতারা মূলত দামের দিকে দেখেই মুরগি কিনছেন। ব্রয়লার কিছুটা সস্তা হওয়ায় অনেকে সেটিই নিচ্ছেন।
বাজার করতে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম কমায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ডিমের দাম বাড়ায় বাজার খরচে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রুবেল নামের এক ক্রেতা বলেন, ডিম এখন প্রায় প্রতিদিনের খাবারের অংশ। দাম একবার বাড়লে পরিবারের বাজার খরচে সেটার প্রভাব পড়ে। ব্রয়লারের দাম কিছুটা কমেছে, এটা ভালো। কিন্তু ডিমের দাম আবার বাড়ায় সেই স্বস্তি পুরোপুরি থাকছে না।
সাইদুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক টাকা করে দাম বাড়লেও মাস শেষে এর প্রভাব বড় হয়। বাজারে সব পণ্যের দামই যদি এভাবে ওঠানামা করে, তাহলে সাধারণ মানুষের হিসাব মেলানো কঠিন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিম ও মুরগির দাম মূলত উৎপাদন, সরবরাহ, চাহিদা, খাদ্যের দাম ও পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো একটি পণ্যের দাম কমলেও অন্যটির দাম একই সময়ে বাড়তে পারে। বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ডিমের দামও কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।
এদিকে ভোক্তাদের দাবি, উৎপাদক থেকে পাইকারি ও খুচরা পর্যায় পর্যন্ত দামের ব্যবধান এবং বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখা দরকার। এতে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ানোর সুযোগ কমবে এবং ক্রেতারাও যৌক্তিক দামে পণ্য কিনতে পারবেন।
এমআর/এএস