নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
মেট্রোরেলের পিলারে ফাটল ও বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটির ঘটনায় কোনো গাফিলতি, অবহেলা বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, মেট্রোরেলের মতো বড় অবকাঠামোতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল-৬-এর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রকল্পটিকে দ্রুত নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য অবস্থায় নেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। কোনো ত্রুটি, গাফিলতি, অবহেলা বা দুর্নীতির কারণে দুর্বলতা তৈরি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে গুণগত মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এর বিপরীতে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সেবার মান ধরে রাখার ক্ষেত্রেও অর্থ জোগানকারী ও নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত শর্ত ও মানদণ্ড মেনে চলতে হবে।
আরও পড়ুন
আড়াই লাখ কোটি টাকার ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন
একনেকে তিন মেট্রোরেল ও ইলেকট্রিক ট্রেনসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন
জানায়েদ সাকি বলেন, পাতাল রেল প্রকল্পে মাটির নিচে কাজের কারণে ওপরের স্থাপনা নিয়ে ঝুঁকিও রয়েছে। পাতাল রেলপথের ওপর থাকা বাসাবাড়ি, অফিস ভবন, রাস্তাঘাটসহ কোনো স্থাপনায় ফাটল বা দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, মেরামতের দায়িত্বও নিতে হবে। এ ধরনের দায়বদ্ধতা তিন বছর পর্যন্ত থাকবে।
মেট্রোরেল প্রকল্পে নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হওয়ায় ব্যয় বাড়লেও নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি স্থানান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধু জনবলের মাধ্যমে নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও প্রযুক্তি স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকার জনসংখ্যার চাপের কারণে গণপরিবহনের বড় অংশ পাতালপথে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, ঢাকার যানজট ও নাগরিক চলাচলের চাপ সামলাতে পাতাল রেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয়, যাতায়াতের দূরত্ব ও সময় কমানো এবং মানুষের কর্মঘণ্টা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পের ঋণ ও ব্যয় প্রসঙ্গে জানায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্প শুরু করতে দেরি হওয়ায় আগে যে ধরনের ঋণ সুবিধা বা কম খরচের সুবিধা পাওয়া যেত, বর্তমানে তা পাওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কারিগরি কমিটির বিস্তারিত পর্যালোচনার পর প্রকল্পের ব্যয় কিছুটা কমানো হয়েছে।
এএইচ/জেবি