নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ব্যবহৃত ও নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন এবং ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারজাতের মাধ্যমে সাড়ে ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাজীপুরের একটি সিগারেট কারখানা ও সংলগ্ন গুদামে অভিযান চালিয়ে এ ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআর জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সদরের কাউলতিয়ায় অবস্থিত ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডে (Virgo Tobacco Ltd.) আকস্মিক অভিযান চালায় মূল্য সংযোজন কর, ঢাকার নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি প্রিভেন্টিভ দল।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দলিল জব্দ করা হয়। একই সময়ে দুটি দল কারখানা ও কাছাকাছি একটি গুদামে অভিযান চালায়। গোয়েন্দা দলের দাবি, বাইরে থেকে কারখানার গেট বন্ধ থাকলেও ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। বারবার গেট খোলার অনুরোধে সাড়া না পাওয়ায় দেয়াল টপকে কর্মকর্তারা কারখানায় প্রবেশ করেন।
অভিযানকারী দল কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সেখানে গিয়ে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পোড়ানোর বিষয়টি দেখতে পায়। পোড়ানো সিগারেটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দলিল দেখাতে বলা হলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দেখাতে পারেনি। এ ধরনের সিগারেট ধ্বংসের জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়।
ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার লিখিত বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
অভিযানে কারখানা ও সংলগ্ন গুদাম এবং আবাসিক ভবন থেকে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ সময় কয়েকটি বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
জব্দ করা আলামত ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাতে এনবিআর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল।
এ ছাড়া মূসক গোয়েন্দার আইটি ও সাইবার ফরেনসিক দল জব্দ করা মুঠোফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন বার্তা এবং হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে। এতে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো ধরনের ভ্যাট চালান (মূসক-৬.৩) ছাড়াই বাজারে সরবরাহের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারের প্রাপ্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৭/২০২৬, তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
এনবিআর জানিয়েছে, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ এবং জাল স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোলের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে দেশব্যাপী অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এমআর/এআর