জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ এএম
খেলাপি ঋণ কমানো ও অবলোপন করা ঋণ আদায়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কর্মদক্ষতা এবার নির্দিষ্ট সূচকে মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংক প্রধানদের কর্মসম্পাদন মূল্যায়নে অভিন্ন ‘কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ (কেপিআই) কাঠামো চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নীতিমালায় এমডি ও সিইওদের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্য এবং তা অর্জনের অগ্রগতিকে কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি করা হয়েছে। ফলে খেলাপি ঋণ হ্রাস ও অবলোপন করা ঋণ আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকলে তাদের পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অভিন্ন কেপিআই ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এমডি ও সিইওদের নিয়োগ ও দায়িত্বসংক্রান্ত সার্কুলারে খেলাপি ঋণ কমানো এবং অবলোপন করা ঋণ আদায়ের শর্ত দেওয়া হয়েছিল। নতুন নীতিমালায় এসব বিষয়কে আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো এমডি বা সিইওকে পুনঃনিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর সময় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ওই প্রতিবেদনে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রধানের সার্বিক কর্মদক্ষতার বিস্তারিত মূল্যায়ন থাকতে হবে।
শুধু ব্যাংকের আর্থিক ফলাফল নয়, আমানতকারীদের স্বার্থ ও ব্যাংকের সামগ্রিক স্বার্থও এমডি-সিইওদের কর্মসম্পাদন মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনস্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সময়ে সময়ে যেসব বিশেষ দায়িত্ব বা লক্ষ্য নির্ধারণ করবে, সেগুলোও কর্মসম্পাদন সূচকের আওতাভুক্ত হবে।
ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ এবং ঋণ আদায়ের দুর্বলতা মোকাবিলায় এমডি-সিইওদের জবাবদিহিতা বাড়াতেই এই অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো করা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। নতুন ব্যবস্থায় শীর্ষ নির্বাহীদের পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন ও কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
টিএই/এএস