নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ এএম
নগরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে ইলিশ এখন অনেকটাই সাধ্যের বাইরে। বড় ইলিশের দাম আকারভেদে কেজিপ্রতি ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। মাঝারি আকারের ইলিশও বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে ছোট আকারের জাটকা ইলিশ। তবে সেখানেও স্বস্তি নেই। আকারে ছোট হলেও জাটকা কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তে মাছ কিনতে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী হামিদুল ইসলাম বলেন, বড় মাছের দিকে তাকানোই যায় না। পরিবারের ছোটদের জন্য ইলিশ খাওয়ানোর ইচ্ছা থাকে, কিন্তু বেতনের টাকায় বড় ইলিশ কেনা সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়ে ছোট জাটকা ইলিশ কিনতে হচ্ছে। কিন্তু এত ছোট মাছের দামও যদি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
আড়তদাররা জানান, ইলিশের আকার, ওজন ও মানের ওপর নির্ভর করে দামে পার্থক্য রয়েছে। বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দামও তুলনামূলক চড়া। আকারভেদে বড় ইলিশ ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের ইলিশের দাম পড়ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, ইলিশের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মিত বাজারের তালিকা থেকে মাছটি বাদ পড়তে বসেছে। বিশেষ দিন বা পরিবারের শিশুদের জন্য ইলিশ কেনার ইচ্ছা থাকলেও দাম দেখে অনেকেই ছোট মাছের দিকে ঝুঁকছেন।

যাত্রাবাড়ী আড়তে মাছ কিনতে আসা আরেক ক্রেতা বলেন, আগে অন্তত ছোট ইলিশ কিনে পরিবারের সবাইকে খাওয়ানো যেত। এখন ছোট মাছের দামও অনেক বেশি। এক কেজি মাছ কিনতে গেলে বাজারের অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসের হিসাব মিলানো কঠিন হয়ে যায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ, আকার ও চাহিদার ওপর দাম ওঠানামা করছে। তবে বর্তমান দামে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের ক্রেতারা। তাদের অনেকের কাছে বড় ইলিশ তো দূরের কথা, ছোট আকারের ইলিশও এখন বিলাসী খাবারে পরিণত হয়েছে।
এদিকে নিত্যপণ্যের বাজারে সবজির পাশাপাশি শাকের দামেও বাড়তি চাপ অনুভব করছেন ক্রেতারা। কম দামে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন ধরনের শাক কিনতেও এখন আগের তুলনায় বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
যাত্রাবাড়ীর আশপাশের বাজারে প্রতি আঁটি লাউ শাক বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাল শাক ২০ টাকা, মুলা শাক ৩০ টাকা, কলমি শাক ২০ টাকা, আলু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং পাট শাক ২০ টাকায়। এছাড়া সরিষা শাক ৩০ টাকা, ধনেপাতা ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং ডাঁটা শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারে শাক কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, শাককে আমরা সাধারণত কম দামের সবজি হিসেবেই দেখি। কিন্তু এখন কয়েক আঁটি শাক কিনতেই ১০০-১৫০ টাকা চলে যাচ্ছে। সংসারের খরচ বাড়ছে, তাই বাজারে এসে প্রতিটি পণ্যের দাম হিসাব করে কিনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আগে আঁটিত যে শাক ছিল তা এখন কমানো হয়েছে।

কথা হয় গৃহিণী রহিমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাচ্চাদের জন্য নিয়মিত শাকসবজি কিনি। মাছ-মাংসের দাম বেশি হওয়ায় শাকসবজি দিয়েই অনেকটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু শাকের দামও যদি বাড়তে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে যায়।
বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, শাকের দাম বাড়ার পেছনে তাদের বাড়তি কোনো হাত নেই। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি পড়ছে।
আরও পড়ুন
ডিমের বাজারে দামের ঝড়, খামারির ঘরে লাভের খরা
যাত্রাবাড়ী আড়তের এক শাক বিক্রেতা বলেন, সকালে আড়ত থেকে যে দামে শাক কিনি, তার সঙ্গে পরিবহন ও নষ্ট হওয়ার হিসাব থাকে। শাক খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি না করলে আমাদের লোকসান হয়।
আরেক বিক্রেতা বলেন, সব ধরনের শাকের দাম এক রকম নয়। সরবরাহ কম থাকলে দাম বাড়ে, আবার বেশি এলে কমে যায়। গত কয়েকদিন কিছু শাকের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম একটু বেশি।
ক্রেতরা বলঋেন, শাকের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও তুলনামূলক কম দামের খাবারের দামও যদি বাড়তে থাকে, তাহলে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাজারের চাপ আরও বাড়বে। তাই বাজারে শাকসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমআর/জেবি