নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ এএম
দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার বিনিময় ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে।
এর আগে সর্বশেষ ৯ সেপ্টেম্বর স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।
চলতি বছর এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫৭ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। ভরিতে ১১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ভ্যাটসহ ৫ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছর এ পর্যন্ত রুপার দাম ৬৯ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ দফা দাম বাড়ানো এবং ৩৪ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১৩ বার; এর মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং তিনবার কমেছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ওপরও সাম্প্রতিক সময়ে চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে উৎপাদক মূল্য আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এতে দেশটির বার্ষিক উৎপাদক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি।
এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও বাজারে জোরালো হয়েছে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপা ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়। এতে মূল্যবান ধাতুর চাহিদা ও দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জেবি