Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

পরীক্ষা ছাড়া ব্যাংকে নিয়োগ বন্ধ, সনদ যাচাই করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়া এখন থেকে কোনো সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকের এন্ট্রি পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউট থেকে পুনর্যাচাই করতে হবে। এ প্রক্রিয়া আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে শতভাগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, করপোরেট সুশাসন ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) ‘বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৮’ জারি করে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব এন্ট্রি পদে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, সেসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, প্রবেশনাল অফিসার, সিনিয়র অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার ও ক্যাশ অফিসারসহ বিভিন্ন পদ।

এসব পদে নিয়োগের জন্য শুধু ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা চাকরির প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেই হবে না। দেশের অন্তত দুটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সশরীরে অথবা অনলাইন অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে লিখিত বা নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা নিতে হবে। পাশাপাশি অবশ্যই মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এসব পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করতে হবে এবং সেই তালিকার বাইরে কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

অভিজ্ঞ প্রার্থীদের উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম মৌখিক পরীক্ষাসহ প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সনদ যাচাইয়ের বিষয়ে বলা হয়েছে, চাকরি চলাকালে পদোন্নতি কিংবা কোনো আর্থিক ও অ-আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া নতুন শিক্ষাগত বা পেশাগত সনদ সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করে ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে।

পরামর্শক বা উপদেষ্টা ছাড়া অন্যান্য সব চুক্তিভিত্তিক পদে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের উচ্চতর পদে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের ব্যাংক ছাড়পত্র বা রিলিজ অর্ডারে সনদ যাচাইয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রত্যয়ন করলে নতুন ব্যাংককে পুনরায় সনদ যাচাই করতে হবে না।

নিয়োগের সময় কিংবা চাকরিরত অবস্থায় কোনো কর্মকর্তার সনদ ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তাৎক্ষণিক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তার তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সিএমএমএস’ ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তিনি অন্য কোনো ব্যাংকে চাকরিতে যোগ দিতে না পারেন।

এ ছাড়া আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংককে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে যুগোপযোগী ও সমন্বিত ‘মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ প্রণয়ন অথবা হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে।

নীতিমালায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন (কেপিআই), জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, ছুটি ও অবসর, আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত নিরসন, হুইসেল ব্লোয়ার পলিসি, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশসহ মোট ১৮টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

টিএই/এএইচ